উৎসব চেহারা নিল কিডস-এর স্টুডেন্ট ইভ্যালুয়েশন টেস্ট

আসিফ রেজা আনসারী

প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে সামাজিক সংস্থা কবিতীর্থ ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্টাডিজ বা কিডস। বিভিন্ন সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের পড়ুয়াদের মধ্যে মেধার বিকাশ, প্রতিযোগিতা তৈরি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য স্টুডেন্ট ইভ্যালুয়েশন টেস্ট বা সেট পরীক্ষা নেয় এই সংস্থাটি। ২০২৬ সালের প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হল ১৯ জুলাই, রবিবার। রাজ্যজুড়ে প্রায় ২১ টি সেন্টারে পরীক্ষা হয়। বাংলা, উর্দু ও হিন্দিমাধ্যমের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রায় দশ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ারা এতে অংশগ্রহণ করে। এই প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষায় যারা ভালো ফলাফল করবে তাদের জন্য যেমন পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে, একইসঙ্গে স্কুলের মাস্টারমশাই এবং পিতা ও মাতাকেও পুরস্কৃত করবে সংস্থাটি।

কেমন চলছে পরীক্ষা তা দেখতে রবিবার হাওড়া হাইস্কুল গিয়েছিল বেঙ্গল মিরর টিম। দেখা দেখা গিয়েছে, এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে উৎসবের চেহারা নিয়েছিল এই সেন্টারটি। স্থানীয় এলাকার বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়ারা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য হারে।

পরীক্ষা হলে পড়ুয়ারা

এই দিন হাওড়া হাইস্কুলের সেন্টারে ১১টি স্কুলের পড়ুয়ারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। প্রায় ৮০০ ছাত্রছাত্রী এই সেন্টার থেকে পরীক্ষা দিয়েছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে এখানকার সেন্টার ইনচার্জ মুহাম্মদ আফতাব আলম জানান, এ বছর পরীক্ষাকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের যোগ্যতাকে তুলে ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। আগামী দিনে এই পরীক্ষা আরও বৃহৎ আকার ধারণ করবে। আরও বহু ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ করবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ পারেন।

সেন্টার ইনচার্জ 

অন্যদিকে বিভিন্ন ঘরের দায়িত্ব থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানান, কিডস-এর যে সমস্ত নিয়ম রয়েছে সেগুলো পালন করছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের কোন সমস্যা হলে তারা দেখিয়ে দিচ্ছেন। খুব সুন্দরভাবে পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে, কোথাও কোন সমস্যা হয়নি। পড়ুয়ারা বলেন, খুব ভালো লাগছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা এবং কিডস-এর এই আয়োজন খুব ভালো।

কিডস-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রিজওয়ান। ফাইল ছবি। 

এর আগেই এই পরীক্ষাটি কেন্দ্র করে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কিডস-এর সদর দফতর থেকে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছিল। সেদিন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রিজওয়ান বিস্তারিত জানিয়েছিলে। আজ সেই সমস্ত দিকগুলির প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। প্রথমবারের মতো কম্পিউটার বেসড টেস্টের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওএমআর পরীক্ষা সুযোগ থাকছে। বিগত দিনের মতো এবারের পরীক্ষাতেও কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার, স্কলারশিপ ইত্যাদি বন্দোবস্ত করা হবে। এবার যারা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে তাদের মধ্য থেকে ৩০ জন বালিকা ও ৩০ জন বালক বিভাগে মোট ৬০ জন ছাত্রছাত্রীকে বিশেষ যত্ন সহকারে পঠন-পাঠনের বন্দোবস্ত করবে কিডস। সেরা পড়ুয়াদের দেখভাল করা, খাওয়া-দাওয়ার বন্দোবস্ত করা এবং এক্সপার্ট শিক্ষকের মাধ্যমে পড়ানোর মন্তব্য করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। 

Post a Comment

0 Comments