সামগ্রিক শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ৩৪ বছর পূর্ণ করল দক্ষিণী প্রয়াস

বেঙ্গল মিরর, কলকাতা: শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে ৩৪ বছরের অঙ্গীকার পূর্ণ করার লক্ষ্যে দক্ষিণী প্রয়াসের শিক্ষা শাখা মাদুরদহ সত্যবৃত্তি বিদ্যালয় ৩৪তম প্রতিষ্ঠা দিবস ‘সতত প্রবাহ ’২৬’ উদযাপন করল। এবারের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ‘বিশ্বশান্তি ও শিশুর অধিকার’। অনুষ্ঠানে পড়ুয়া, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ ইউনিভার্সিটি অব টিচার্স’ ট্রেনিং, এডুকেশন প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর (ড.) সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই উদযাপনে দক্ষিণী প্রয়াসের শিক্ষা ভাবনার বিশেষ বৈশিষ্ট্য উঠে আসে। সংস্থার শিক্ষা মডেল শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিশুদের সার্বিক বিকাশ, পরিবারকে আরও শক্তিশালী করে তোলা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাত্র চারজন শিশুকে নিয়ে একটি গাছের তলায় যে পথচলা শুরু হয়েছিল, তা আজ প্রায় ৪০০ পড়ুয়াকে নিয়ে একটি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে।

সংস্থার দীর্ঘ যাত্রাপথ প্রসঙ্গে দক্ষিণী প্রয়াসের সভাপতি অনুভূতি প্রকাশ বলেন, “আমরা সবসময় সামগ্রিক শিক্ষার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি প্রতিটি শিশুর সার্বিক বিকাশের উপর জোর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র শিশুদের প্রগতিশীল ও সফল করে তোলা নয়, বরং এমন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, যারা ভবিষ্যতে সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দিতে পারবে। চারজন শিশুকে নিয়ে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে প্রায় ৪০০ পড়ুয়ার শিক্ষালাভের পরিসরে পৌঁছেছে। এই যাত্রা আমাদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।”

প্রফেসর (ড.) সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দক্ষিণী প্রয়াস তার পড়ুয়াদের এমন একটি সামগ্রিক শিক্ষার পরিসর দিয়েছে, যেখানে বিকাশের পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংস্থাটি শিশুদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও নতুন দক্ষতা গড়ে তুলতে সাহায্য করছে এবং একইসঙ্গে তাদের নিজস্ব প্রতিভা চিহ্নিত করে তা বিকশিত করার সুযোগ করে দিচ্ছে। প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই কোনও না কোনও প্রতিভা রয়েছে, আর সেই সম্ভাবনাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব আমাদের। ‘বিশ্বশান্তি ও শিশুর অধিকার’ বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও যুদ্ধের প্রভাব শিশুদের উপর গভীরভাবে পড়ে।”

সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই শিক্ষা মডেল অভিভাবক ও পরিবারগুলিকেও এর সঙ্গে যুক্ত করেছে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথকে সুগম করেছে। MSV-এর বেশ কয়েকজন প্রাক্তন পড়ুয়া পরবর্তীকালে শিক্ষক ও কর্মী হিসেবে আবারও এই প্রতিষ্ঠানে ফিরে এসেছেন। এর মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ ও সমাজকে ফিরিয়ে দেওয়ার একটি ধারাবাহিক চক্র তৈরি হয়েছে। শিক্ষা, শিশুর সার্বিক বিকাশ, পরিবারের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে দক্ষিণী প্রয়াস এমন এক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে, যেখানে শুধু সফল পড়ুয়া নয়, বরং সহানুভূতিশীল, আত্মবিশ্বাসী এবং সমাজসচেতন নাগরিক তৈরি হবে।

Post a Comment

0 Comments