ক্যানিংয়ে তিন যুবককে মারধর ও লুটের অভিযোগ, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা, ক্যানিং: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং মহকুমার জীবনতলা থানার অন্তর্গত নাড়াবুনিয়া গ্রামের তিন যুবকের উপর হামলা, মারধর, অপহরণসদৃশভাবে নিয়ে যাওয়া এবং অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। আক্রান্তদের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর কয়েকদিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেরেফতার করা হয়নি এবং লুট হওয়া সামগ্রীও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। অভিযোগ, নাড়াবুনিয়া গ্রামের রাজিবুল মোল্লা (পিতা: মোজাফফর মোল্লা), জাহির মোল্লা (পিতা: মোশারফ মোল্লা) এবং হাফিজুল মোল্লা (পিতা: হোসেন মোল্লা) গত ২৮ মে, ঈদের দিন সন্ধ্যায় ক্যানিংয়ের মিটাখালি-মৌখালী সংযোগকারী ভাইরাল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি গাছের নিচে বসে মোবাইল ফোন দেখছিলেন। সেই সময় একদল যুবক এসে তাঁদের নাম-পরিচয় জানতে চায়। এরপর মুসলিম পরিচয় জানার পর তাঁদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, আক্রান্ত তিন যুবককে মারধরের পর একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ছবি তোলা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় তিনটি মোবাইল ফোন, নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং দুটি মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ওই দিন রাত প্রায় ৮টা নাগাদ ক্যানিং থানায় গিয়ে বিষয়টি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কেবল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার বা লুট হওয়া সামগ্রী উদ্ধারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

এ দিকে মানবাধিকার কর্মী হোসেন গাজী আক্রান্তদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যানিং এসডিপিও, ক্যানিং থানার আইসি এবং বারুইপুর জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে দাবি জানানো হবে। হোসেন গাজী বলেন, "অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্তদের লুট হওয়া ১৫ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে ফেরত দিতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "এই দেশ সকল নাগরিকের সমান অধিকারের দেশ। ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন ও বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।"

Post a Comment

0 Comments