বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: ধর্ম নিয়ে রাজনীতি নয়। বরং মানুষের উন্নয়নই হোক আসল ধর্ম। বুধবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া ও মহিষাদলে নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচিতে এসে এমনই বার্তা দিলেন অভিনেতা তথা তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের অন্যতম টার্গেট পূর্ব মেদিনীপুর। সেই জেলায় ইতিমধ্যে প্রচারের ঝড় তুলতে শুরু করেছে শাসক প্রার্থীরা। বুধবার দুপুরে প্রথমে হলদিয়া বিধানসভার তৃণমূলের প্রার্থী তাপসী মন্ডলের সমর্থনে দুর্গাচক থেকে চৈতন্যপুর পর্যন্ত একটি র্যালি করেন দেব। এরপর মহিষাদল বিধানসভার প্রার্থী তিলককুমার চক্রবর্তীর সমর্থনে দ্বারিবেড়িয়া স্কুল মাঠে জনসভা করেন দেব। সেখান থেকে তৃণমূলের উন্নয়নের ওপর ভরসা রেখে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জোড়া ফুল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান দেব।
এ দিন দেব বলেন, এই নির্বাচন কে কত বড় মুসলমান এবং কে কত বড় হিন্দু তার জন্য নয়। এই নির্বাচন হল ভোটে জেতার পর কে কতগুলো হাসপাতাল গড়বে, কে কতগুলো স্কুল গড়বে, কে কতগুলো রাস্তা করবে তার নির্বাচন। আমি মনে করি সেই দলের জেতা উচিত যে কথা দিয়ে কথা রাখে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দেবের হাত ধরে হবে। ভোটের আগে আমি দিদিকে বলেছিলাম এই প্ল্যানের কথা। এরপর ভোটে জেতার ৮ মাসের মধ্যে এই প্ল্যান পাস হয়েছে। ২ হাজার কোটি টাকার এই প্রজেক্ট স্বাধীনতার পরে আজ পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি। বিরোধী দলের তাবড় তাবড় নেতারাও করতে পারেননি। করতে পেরেছেন আমাদের দলের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে ভোটে জেতা উচিত কার আপনারাই বিচার করুন। বিজেপির নাম না করে কটাক্ষ করে দেব বলেন, বিরোধী দল বলেছিল জেতার পর ১৫ লক্ষ টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত আসেনি। ২ কোটি চাকরি হবে বলেছিল কিন্তু আজ পর্যন্ত হয়নি। কিন্তু আমাদের নেত্রী ২১-এর নির্বাচনের আগে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সব প্রকল্প হয়েছে। বাড়িতে মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান। চিকিৎসার জন্যও আমাদের নেত্রী স্বাস্থ্যসাথী চালু করেছেন। মহারাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে দেব বলেন, যারা বলেছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া সম্ভব নয় তারা নিজেরা মহারাষ্ট্রে টাকা দেওয়া শুরু করেছিল। কিন্তু টানতে পারেনি বলে এক মাসের মধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে। ধর্মীয় রাজনীতির বিপক্ষে গিয়ে দেব বার্তা দিয়ে বলেন, যখন স্কুলে পড়তাম পাশের বন্ধু হিন্দু কী মুসলিম বুঝতাম না। কিন্তু আজ ধর্মের বিষ এমন জায়গায় চলে গিয়েছে পাশে দুটো হিন্দু এবং দুটো মুসলিম বাড়ি থাকলেও চর্চা চলে। আমাদের মনে হচ্ছে যে জিতবে সে মন্দির করবে অথবা মসজিদ করবে। কিন্তু কোনও নির্বাচন মন্দির কিংবা মসজিদের জন্য হয় না। এই নির্বাচন মানুষকে আগলে রাখার জন্য হয়। আপনারা ধর্মের রাজনীতির ফাঁদে পড়বেন না। যে দলের প্রার্থীরা আপনার ধর্ম না জিজ্ঞেস করে আপনার পাশে থাকবেন তাঁকেই আপনারা ভোট দেবেন। আমরা প্রথমে ভারতীয়, তারপর আমাদের ধর্ম। ধর্ম জিজ্ঞেস করে কাজ করা উচিত নয়। কাজটাই ধর্ম হওয়া উচিত। দেবের দুই কর্মসূচিতেই মানুষের উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
0 Comments