মোথাবাড়ি-কাণ্ড: গ্রেফতার মোফাক্কেরুল ইসলাম, আটক ইউটিউবার একরামুল বাগানি

বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: এসআইআর বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি বিশৃংখল পরিস্থিতি তৈরি হয় মালদার মোথা বাড়িতে। সেই মোথাবাড়ি কাণ্ডে এবার গ্রেফতার হলেন 'মূলচক্রী' মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলাম। পেশায় আইনজীবী ও ইটাহারের বাসিন্দা মোফাক্কেরুলকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে তিনি গ্রেফতার হন। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তিনি বেঙ্গালুরু যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তার আগেই বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মোথাবাড়ির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মোট ৩৫ জনকে। এরমধ্যে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীও রয়েছেন। এদিকে শুধু মোফাক্কেরুল ইসলাম নয় তার পাশাপাশি ইউটিউবার একরামুল বাগানিকে আটক করেছ পুলিশ। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোফাক্কেরুল ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা। বয়স ৪০ বছর। রায়গঞ্জ আদলতের আইনজীবী ছিলেন। কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী বলে পরিচয় দেন। কলকাতাতেও বাড়ি রয়েছে। ২০২১ সালে ওসাদউদ্দিন ইয়েওসি-র দল মিমের হয়ে ইটাহারে প্রার্থী হন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই কিছুই দাগ কাটতে পারেননি। কিন্তু সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়তা রয়েছে তাঁর। গ্রেফতার হওয়ার পরই মোফাক্কেরুল সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, 'আপনারা ভালো থাকুন'। সঙ্গে নিজের গ্রেফতারি সম্পর্কে একটি ছোট্ট ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। 

জানা গিয়েছে, মোথাবাড়ি কাণ্ডে মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে জনতাকে উসকানি দেওয়া, সংগঠিত করার অভিযোগ ওঠে। তারপর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রামণ সংবাদমাধ্যমে বলেন, "এই ঘটনায় ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার ৩৫ জন। আমাদের কাছে খবর ছিল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল বাগডোগরা বিমানবন্দের আছে। তারপরই গ্রেফতার করা হয়।" 

প্রসঙ্গত, এসআইআরে নাম বাদ পড়ায় বুধবার রাতে কালিয়াচক ২ বিডিও অফিস ঘেরাও থেকে শুরু করে ১২ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে জনতা। এর মাঝে বন্দি হয়ে পড়েন এসআইআরের জন্য কাজে যাওয়া বিচারক, জুডিশিয়াল অফিসাররা। ভোরে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালেই সুপ্রিমকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ে কমিশন। শোকজ করা হয় রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজি, মালদহের জেলাশাসক ও এসপিকে। কমিশন এনআইএ তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এনআইএ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে গ্রেফতার করা হল মোফাক্কেরুলকে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের নাম কেটে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে আর তাই সমস্ত অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু এই আন্দোলনের মাঝেই অন্য মোড় নেয় পুরো ঘটনা।

Post a Comment

0 Comments