কলকাতা: ইরান–মার্কিন সংঘাতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ভারতের ফাউন্ড্রি ও কাস্টিং শিল্পকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিপর্যস্ত করেছে, যার ফলে কাঁচামালের দাম এবং পরিবহন খরচে তীব্র বৃদ্ধি ঘটেছে—এমনটাই জানানো হয়েছে শিল্পের শীর্ষ সংস্থাগুলির যৌথ বিবৃতিতে। ফাউন্ড্রি অ্যান্ড কাস্টিংস ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (এফসিডিএ), ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ফাউন্ড্রিমেন (আইআইএফ) এবং ইন্ডিয়ান ফাউন্ড্রি অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) জানিয়েছে, গত তিন মাসে পিগ আয়রনের দাম ১৩ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। স্টিল গ্রেড পিগ আয়রনের দাম ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রতি টন ৩৬,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪১,৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে ফাউন্ড্রি গ্রেড পিগ আয়রনের দাম ৪০,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫,০০০ টাকা প্রতি টনে দাঁড়িয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধি আরও তীব্র হয়েছে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে। দেশে হার্ড কোকের দাম পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং যুদ্ধজনিত অতিরিক্ত শুল্কের কারণে প্রতি টনে ২,০০০–৩,০০০ টাকা বেড়েছে। রেজিনের দাম প্রতি কেজি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকারও বেশি হয়েছে, আর ক্যাটালিস্টের দাম জানুয়ারি থেকে ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা প্রতি কেজিতে পৌঁছেছে।
পরিবহন খরচ একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পণ্য পাঠানোর ভাড়া ৫০–৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে লজিস্টিক খরচ ৪০–১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পেছনে রয়েছে যুদ্ধঝুঁকি সংক্রান্ত অতিরিক্ত চার্জ, জাহাজের মূল্যের ওপর ৫–১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি বিমা প্রিমিয়াম, এবং লোহিত সাগরের উত্তেজনার কারণে ‘কেপ অফ গুড হোপ’ হয়ে বিকল্প পথে পণ্য পরিবহন। রপ্তানির চাহিদায় কিছুটা মন্থরতা লক্ষ্য করা গেছে, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তেল ও গ্যাস, পাম্প এবং ভালভ খাত স্থিতিশীল থাকলেও, অটোমোবাইল ও নির্মাণ সংক্রান্ত কাস্টিং পণ্যে সামান্য মন্দা দেখা দিয়েছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ফাউন্ড্রি শিল্পগুলি মার্জিন কমে যাওয়া, পণ্য পাঠাতে দেরি হওয়া এবং কার্যকরী মূলধনের চাপে পড়ার মতো একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
এফসিডিএ-র যুগ্ম চেয়ারম্যান বিজয় শঙ্কর বেরিওয়াল বলেন, পেমেন্ট চক্র উল্লেখযোগ্যভাবে দীর্ঘ হয়েছে, যার ফলে মার্জিন হ্রাস ও বাড়তে থাকা কার্যকরী মূলধনের চাপে থাকা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ফাউন্ড্রি শিল্পগুলির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই সব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারতের বৈচিত্র্যময় উৎস সংগ্রহ ক্ষমতা এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থা কিছুটা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করছে, যা পিগ আয়রন বাজারকে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও সরবরাহ ধাক্কা থেকে আংশিক সুরক্ষা দিচ্ছে।
এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিল্পের বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা, যেমন সন্দীপ কেজরিওয়াল, সুমিত আগরওয়াল, অনিল মাধোগারিয়া এবং সন্দীপ দত্ত। তাঁরা সকলেই খরচ বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং শিল্পের টেকসই বৃদ্ধির জন্য কৌশলগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেও শিল্প সংগঠনগুলি উল্লেখ করেছে যে, শক্তিশালী প্রকৌশল দক্ষতা, প্রতিযোগিতামূলক খরচ এবং সুপ্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের কারণে ভারত ক্রমশ একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প উৎস হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

0 Comments