বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা খেল হুমায়ুন কবীর। তাঁর দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট ভাঙলেন মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। বৃহস্পতিবার তৃণমূল সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুনের একটি গোপন ভিডিও প্রকাশ্যে আনে। সেই বিতর্কিত ভিডিওর পরই বাংলায় একা লড়াই করার ঘোষণা করে মিম। বৃহস্পতিবার হুমায়ুন কবিরের একটি ভিডিও দেখিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে মুসলিম ভোটারদের ভুল বোঝানোর অভিযোগ করা হয়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, হুমায়ুন কবির কোনো একজনকে বলছেন বিজেপির কাছ থেকে তিনি হাজার কোটি টাকা চেয়েছেন মুসলিম ভোটকে প্রভাবিত করার জন্য। এরমধ্যে তিনশো কোটি টাকা অগ্রিম চেয়েছেন তিনি। হুমায়ুনকে বলতে শোনা গিয়েছে যে বাবরি মসজিদের দাবি তিনি তুলেছেন মুসলিম সমাজের ভাবাবেগকে কাজে লাগানোর জন্য। তিনি আরও বলেন, বাবরি নামের থেকেও মসজিদটা আসল। ভিডিওতে হুমায়ুনকে বলতে শোনা গিয়েছে যে পিএমও-র সঙ্গে কথা বলে শুরুতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী এবং পরে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এই কাজে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন।
এই ভিডিও প্রকাশ হওয়ায় পরই রাজ্য-রাজনীতিতে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূল হুমায়ুনকে নিয়ে বিজেপিকে বিঁধছেন। অন্যদিকে বিজেপি দায় ঝেড়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধানকে তৃণমূলের 'সঙ্গী' বলেই পাল্টা জবাব দিচ্ছেন। এরমধ্যে মাঝে ফেঁসে রয়েছেন সেই হুমায়ুন কবীর। তিনি অবশ্য এই গোটা ঘটনাটিকে 'এআই' বলে তৃণমূলের চক্রান্তের অভিযোগ করেছেন। তবে তাঁর এই দাবি আলোচনা বিন্দুমাত্র কমাতে পারেনি।
এইদিকে আজ শুক্রবার সকালে মিমের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লেখা হয়, ' ভিডিওতে হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজ কতটা অসহায় অবস্থায় রয়েছে। মিম এমন কোনও বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারে না, যেখানে মুসলিমদের মর্যাদা বা সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। আজকের পরিস্থিতিতে মিম হুমায়ুন কবিরের দলের সঙ্গে জোট থেকে সরে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা রাজ্যের অন্যতম দরিদ্র, অবহেলিত এবং বঞ্চিত সম্প্রদায়। দীর্ঘদিন ধরে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শাসন চললেও তাদের অবস্থার কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।...'
এই বিধানসভা নির্বাচনে একা লড়াইয়ের ঘোষণা করে মিম স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও তারা আর কোনও দলের সঙ্গে জোট করবেন না। কিছুদিন আগে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র গড়ার পর থেকেই মিমের সঙ্গে জোট করে বাংলায় ভোটে লড়ার কথা বলে এসেছেন হুমায়ুন কবীর। মার্চ মাসের শেষ দিকে ওয়েইসি রাজ্য সফরে আসেন। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁকে 'বড় ভাই' সম্বোধন করে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ঘোষণাও করেছিলেন এজেইউপি নেতা। সেইসময় দু'জনেই জানিয়েছিলেন, শুধু বিধানসভা নির্বাচন নয়, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনেও তারা একসঙ্গে লড়বেন। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই ছন্দপতন। আজ দুজনের দুটি পথ দুই দিকে গেলো বেঁকে।

0 Comments