ভোটার তালিকায় মায়ের নাম 'ডিলিট', কমিশনের কাজে ক্ষুব্ধ আইনজীবী আসফাক আহমেদ

জাহানারা খাতুন

বিভিন্ন এলাকায় যখন ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন। ভোটার লিষ্ট থেকে নাম বাদ যাওয়ার তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে, তখন আরেকটি ঘটনা সামনে এলো শনিবার। জানা গিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসফাক আহমেদের মায়ের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। তিনি ২০০২ সালের ভোটার ছিলেন। সে সময় তিনি রতুয়া বিধানসভার ৭ নম্বর অংশের ভোটার ছিলেন। বর্তমানে তিনি হরিশচন্দ্রপুর বিধানসভার ১৫৫নম্বর অংশের ভোটার। আইনজীবী আসফাক আহমেদের মা জোৎস্না বেগমের নামে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নোটিশ ইস্যু হয়েছিল। সমস্ত নথি জমা দিয়েছিলেন। তারপরও নাম কেটে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। 

এই নিয়ে তার আইনজীবী আসফাক আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের নামে পশ্চিমবঙ্গে যা চলছে, তা কোনও স্বাভাবিক রিভিশন নয়—এটা একটি সংগঠিত ভোটার বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া। হাজার হাজার মানুষের নাম কোনও কারণ না দেখিয়েই ডিলিট করা হচ্ছে—এটা সরাসরি আইনবিরোধী এবং গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি উদাহরণ দিচ্ছি—আমার নিজের মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে ছিল। তিনি হিয়ারিংয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন, সমস্ত ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন। তারপরও কোনো কারণ না দেখিয়ে তার নাম ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—যদি ২০০২ থেকে একজন ভোটার হন, ডকুমেন্ট দেন, হিয়ারিংয়ে যান, তবুও যদি নাম কেটে দেওয়া হয়—তাহলে এই পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায়? সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো—যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের কাউকেই কোনো কারণ জানানো হয়নি। আইন অনুযায়ী reasoned order দেওয়া বাধ্যতামূলক—কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

TBM Graphic

ইলেকশন কমিশন যে ট্রাইবুনাল গঠন করেছে এই ট্রাইবুনাল নিয়োগ প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ট্রাইবুনাল তৈরি করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শুধু বিচারক নিয়োগ করা হয়েছে—কোনো অপারেশনাল সিস্টেমই তৈরি করা হয়নি। মানুষ কোথায় যাবে, কিভাবে আপিল করবে—সবই ধোঁয়াশা। উপরন্তু বলা হচ্ছে, লিস্ট প্রকাশের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে—এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। আরও বড় প্রশ্ন—Form 6-এর মাধ্যমে নতুন করে নাম যুক্ত করা যাবে কিনা, সেই বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়—হরিশ্চন্দ্রপুর–II এর BDO নিজেই বলছেন, ‘আমরা এখনো কিছু জানি না, সবকিছুই ধোঁয়াশা।’ সব মিলিয়ে এটা পরিষ্কার—একদিকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সেই ভুল সংশোধনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা রাখা হয়নি। আমরা স্পষ্ট করে বলছি—এটা কোনো নির্বাচন প্রক্রিয়া নয়, এটা গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা, এবং আমরা এর বিরুদ্ধে আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াই চালিয়ে যাব।

Post a Comment

0 Comments