সুমন সেনগুপ্ত
সুপ্রিমকোর্টের আধার সংক্রান্ত যে রায় আছে তাতে স্পষ্ট বলা আছে আধার জন্মের প্রমাণপত্র নয় আধার বসবাসের প্রমাণপত্র নয়। আধার যে নাগরিকত্বের প্রমাণ নয় সেটা তো আধার নিজেই বলে। আজকে যে ফর্ম সিক্স নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার মূলে কিন্তু সেই আধারই আছে। ফর্ম সিক্সের দুটো পার্ট আছে, সেই দুটো এখানে দিলাম। দুটোতেই দেখুন জন্মের প্রমাণপত্র এবং বসবাসস্থানের প্রমাণপত্র হিসাবে আধারকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে।
এখানে একজন মানুষ যদি হরিয়ানায় থাকেন কিংবা মধ্যপ্রদেশে থাকেন তিনি তার আধারের ঠিকানা বাড়িতে বসেই বদল করতে পারবেন, সেই ব্যবস্থা ইউআইডিএআই এই মুহূর্তে চালু রেখেছে এবং সেখানে কোন পয়সাও লাগছে না। এবার ভালো করে বিষয়টা ঠান্ডা মাথায় বুঝুন একজন ভিনরাজ্যের ভোটার তার আধার যে বসবাসস্থানে ছিল তার পরিবর্তে যদি বাংলার কোন বসবাসস্থান এর ঠিকানা দিতে পারেন এবং তার স্বপক্ষে যে কোন প্রমাণ নিশ্চয়ই তাকে কেউ না কেউ যুগিয়ে দিতে পারবেন তাহলে বসবাসস্থান পরিবর্তন হয়ে গেল।
এবার তিনি যদি এই ফর্ম সিক্সটি ভরতে পারেন তাহলে তিনি সহজেই এই রাজ্যের ভোটার হয়ে যাবেন কারণ বিএলওদের মাধ্যম দিয়ে এই ফর্ম সিক্স এপ্রুভ হবে না এটা হবে আরও উপরের স্থল দিয়ে। এই ভাবেই ভিনরাজ্যের ভোটাররা বাংলার নির্বাচনে নাম তুলছেন। যারা এইটা এখনো বুঝতে পারছেন না যে আধারই মূল সমস্যার কারণ তারা আবারও রাহুল গান্ধীর সেই সাংবাদিক সম্মেলনের স্লাইডটি দেখে নিন।
এভাবেই ভুয়া ভোটার ঢুকছে। সেই জন্যই শমিক ভট্টাচার্য নির্দ্বিধায় বলে দিচ্ছেন ট্রেনে করে বাইরের ভোটাররা আসবে ভোট দেবে এবং হাসতে হাসতে চলে যাবে। ঠিক যেমনটা বিহারে হয়েছিল। হিসাব করে বিরোধী ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন হিসেব করে নিজের পক্ষের ভোটার ঢোকানো হচ্ছে খেলাটা মন দিয়ে বুঝুন না বুঝতে পারলে কার্টুন চ্যানেল দেখুন।

0 Comments