বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে বিধানসভা ভোটের কাল সোমবার অর্থাৎ ২৩ মার্চ সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে পারে। তার আগে নবান্ন সব জেলাকে সতর্ক করেছে। বলা হয়েছে, বুথে বুথে আঁটসাট নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষে ৬০ লক্ষ আবেদন বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। তার মধ্যে থেকে যাঁদের যোগ্য বলে বিবেচনা করছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা তাঁদের নামই কেবল কালকের সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে রাখা হবে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক বিধায়কের নামও রয়েছে এই বিবেচনাধীনের তালিকায়। তাঁদের মধ্যে শশী পাঁজা অন্যতম। জানা গিয়েছে, শশী পাঁজার নামের নিষ্পত্তি ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হবে, সেই তালিকাতেই তাঁর নাম থাকছে। ফলে এই শ্যামপুকুর থেকে নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে আর কোনও জটিলতা থাকছে না।
এর বাইরে জানা গিয়েছে, সাধারণত প্রার্থী বা বিধায়কদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যাওয়ারই কথা। কিন্তু ঘটনা হল, ওই ৬০ লক্ষ আবেদন বিবেচনা করা হয়েছে আপলোডেড ডকুমেন্টের ভিত্তিতে। নতুন করে ডকুমেন্ট আপলোড করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে কোনও বিধায়কের যদি ডকুমেন্ট আপলোডে ঘাটতি থাকে তাহলে তাঁকে ঝঞ্ঝাট পোহাতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ পাবেন তিনি। তবে চিন্তার বিষয় হল, মনোনয়ন পেশ করার শেষ দিনের আগে ট্রাইব্যুনালে সেই আবেদন নিষ্পত্তি হবে না।
এ দিকে কমিশন জানিয়েছে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা ২৭ লক্ষেরও বেশি মামলা নিষ্পত্তি করে ফেলেছেন। গড়ে দেড় লক্ষ করে নিষ্পত্তি হলে ধরে নেওয়া যেতে পারে ৩০ লক্ষ নামের নথি যাচাই হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে থেকে কত নাম বাদ পড়েছে, সেই তথ্য তাঁরা জানায়নি। এদিকে ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি রোল প্রকাশকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ভিড় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলাশাসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে রাখা হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৩ মার্চ সন্ধেয় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশিত হতে পারে। সে জন্য জেলার বিভিন্ন জায়গায় ভিড় জমতে পারে। তাই আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে স্পর্শকাতর এলাকায় কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। জেলার পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের বিষয়টি জানানো হয়েছে, যাতে প্রশাসন ও পুলিশ একসঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে।

0 Comments