ফুরফুরায় আরাবুল, ৬০ লক্ষ ঝুলে থাকা ভোটারদের হয়ে হাইকোর্টে নওসাদ, সরগরম রাজ্য-রাজনীতি

আসিফ রেজা আনসারী

বেজেছে বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের বাজনা। তারপর শুরু হয়েছে দলবদল ও লুকোচুরি খেলা। এরই মধ্যে সোমবার সাতসকালে ভাঙন দেখল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। দেখা যাচ্ছে একদিকে 'বিবেচনাধীন’ ভোটারদের অধিকার রক্ষায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি; অন্যদিকে তৃণমূলের ‘তাজানেতা’ আরাবুল ইসলাম দলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে ছুটলেন ফুরফুরার দিকে। 

জানা গিয়েছে, বাংলায় অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামছেন নওসাদ সিদ্দিকী। রাজ্যে ভোট হবে দুই দফায়— ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। কিন্তু অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা নিয়ে বা বহু সংখ্যক মানুষকে বাইরে রেখে ভোট করার মানে হয়? সেই উত্তর খুঁজতে আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর মূল দাবি, যে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রয়েছে, তাঁদের ভোটদানের বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে কমিশনকে। নওসাদের বক্তব্য, “কোনও বৈধ ভোটার যেন তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই আইনি পদক্ষেপ।” ভোটের আগে এই জনস্বার্থ মামলা কমিশনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অন্যদিকে, বিধানসভার ভোট ঘোষণার পরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে বড় ধাক্কা শাসকদল তৃণমূলে। দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলাম সোমবার সকালে জানিয়ে দেন, তিনি আর তৃণমূল কংগ্রেসে নেই। ফুরফুরা শরিফের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে কান্না জড়ানো কণ্ঠে আরাবুল বলেন, “সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের সময় থেকে নেত্রীর পাশে থেকেছি। যে দলের জন্য পাঁচবার জেলে গেলাম, তিনবার সাসপেন্ড হলাম, সেই দল আজ আমায় চিনতে পারল না। বড় দুঃখে দল ছাড়ছি।"

এই দুই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে শোরগোল। যখন বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রায় সব রাজনৈতিক দল নীরবতা পালন করছে, তখন লড়াইয়ের ময়দানে নওসাদ সিদ্দিকী।অনেকেই মনে করছে, ভোটার তালিকায় ঝুলে থাকা মানুষের মন কাড়তে পারে নওসাদ। অন্যদিকে আরাবুল চলে যাওয়ায় ভাঙড়ে মন ভাঙতে পারে সাধারণ তৃণমূল কর্মীদের। যদিও তা মানতে নারাজ ঘাসফুল শিবির। 

Post a Comment

0 Comments