'বিচারাধীন': ভোটে প্রার্থী হাওয়ার অধিকার খর্বের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে বামেরা

বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাও নাগরিক অধিকার। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে বিপদে ফেলা হয়েছে। যৌক্তিক অসঙ্গতির নাম করে বহু ভোটারকে বিচারাধীন বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাহলে তারা কী এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না বা ভোট দিতে পারবে না? এমনই বহু প্রশ্ন সামনে আসছে। রাজ্যে এসআইআর-এর ধাক্কায় দু’তরফের অধিকারই ‘বিচারাধীন’। এর ফলে ভোট দেওয়া তো বটেই, এমনকি অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়াও প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তির গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হওয়ার আশঙ্কায় এবার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বামেরা। সোমবার বিকালে বামেরা প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা দিয়েছে। সেই সময়ই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম সংবাদমাধ্যমে জানান, ভোট দেওয়া এবং প্রার্থী হওয়া— উভয়ই নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু, ভোটার তালিকায় নাম বিচারাধীন থাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়ন ব্যাহত হবে। যে কারণে তাঁরা এই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।একইভাবে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু দাবি করেন, বিবেচনাধীন তালিকার নিষ্পত্তি করেই তবে ভোটের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

একইভাবে দেখা যাচ্ছে, ‘অমীমাংসিত’ বা বিচারাধীন তালিকা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেও তীব্র বিস্ময় ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন ভোটারের তালিকায় নাম উঠে এসেছে খোদ শাসকদলের পাঁচ-ছয়জন সংখ্যালঘু বিধায়কের। জাকির হোসেন (জঙ্গিপুর, প্রাক্তন মন্ত্রী), বাইরন বিশ্বাস (সাগরদিঘি), আবদুর রাজ্জাক (জলঙ্গী), তোরাফ হোসেন মণ্ডল (কুমারগঞ্জ), রফিকুর রহমান (আমডাঙা), তজমুল হোসেন (মন্ত্রী, হরিশ্চন্দ্রপুর)। শুধু তাই নয়, রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজার নামও ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের তালিকায় রয়েছে। ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকলেও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। আজ তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় তাঁর নাম সেখানে থাকে কি না, এখন সেটাই দেখার।

এ দিকে বিজেপি তখন প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় বড়সড় চমক দিয়েছে। সোমবার ঘোষিত ১৪৪ জনের তালিকায় দেখা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম কেন্দ্র থেকে দল প্রার্থী করেছে কলিতা মাজিকে। সেই কলিতার নামও বর্তমানে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছে এবং তথ্যগত অসঙ্গতির জন্য তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। পেশায় পরিচারিকা কলিতার প্রার্থী পদ কমিশন শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করে কি না, তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। অনেকে সমালোচনা করছেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মিলেমিশে এমন কিছু করবে যাতে তাদের প্রার্থীরা সুযোগ পায়। কিন্তু সাধারণ মানুষ যাদের নাম এখন বিচারাধীন তারা কি ভোট দিতে কিংবা প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবে? এই উত্তর অজানা রয়েছে। 

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ। সোমবার পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্য সংক্রান্ত গড়মিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। কিন্তু কবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে তা জানাননি। জানা গিয়েছে, বর্তমানে ৭০৫ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক কাজ করছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বিচারাধীন তালিকায় থাকা বাকি ভোটারদের তথ্য দ্রুত যাচাইয়ের কাজ চলছে। আগামী সাত দিনের মধ্যেই বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রথম পরিপূরক তালিকা প্রকাশ করতে পারে কমিশন। তবে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও বলছে না কমিশন। প্রশ্ন, নাগরিকদের ভোট দেওয়া ও প্রার্থী হওয়ার অধিকার কেড়ে নির্বাচন কী অযৌক্তিক নয়? 

Post a Comment

0 Comments