বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন চিকিৎসকের মর্মান্তিক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গোটা রাজ্য ও দেশ উত্তাল হয়েছিল। রোগী ও চিকিৎসক - স্বাস্থ্য কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুচিকিৎসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত একসারি নির্দেশ দিয়েছিল। রাজ্য সরকার ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর থেকে আপৎকালীন ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মদক্ষতায় মেদিনীপুর হাসপাতালে স্যালাইন, ও জাল ওষুধ কেলেঙ্কারিতে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু সহ আরও আরও প্রাণহানির আশংকা সকলের স্মরণে আছে। অপরাধী জাল ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহকারীদের শাস্তির পরিবর্তে আন্দোলনকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের শাস্তি দিতে তৎপর হয়ে ওঠে রাজ্য প্রশাসন বলেও অভিযোগ। এরই মধ্যে আর জি কর হাসপাতালে লিফট আটকে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু কলেজ প্রশাসন ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের কঙ্কালসার অবস্থাকে আবার বেআব্রু করল।
সমালোচকদের মতে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের স্বপদে বহাল রেখে রাজ্যের ব্যস্ততম মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বাস্থ্য দফতরের দেখাশোনা করেন। এতো মানুষের প্রাণ ও স্বাস্থ্য যেখানে জড়িয়ে আছে, সেখানে একজন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত পূর্ণ সময়ের মন্ত্রীর অভাব আজ ও মিটল না। সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি এ নিয়ে বিবৃতিতে বলেছ, "এই মৃত্যু আদতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য দপ্তরে ঠিকা রাজ প্রতিষ্ঠার ফলশ্রুতি। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারদের দৌরাত্ম্য মাত্রাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। আরও আরও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সম্ভাবনা দূর করতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে। অভয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু দাবি জানিয়ে ছিল এক দু'জন অপরাধীর শাস্তি রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জনমুখী করে তুলতে পারে না। এক উত্তাল জনমুখী স্বাস্থ্য আন্দোলন সময়ের দাবি।"

0 Comments