সন্দীপ দাস
নির্বাচন কমিশন মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। সবকিছুতে কোর্টের দিকে বল ঠেলে দিচ্ছে। শনিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে ডেপুটেশন দিয়ে এমনই অভিযোগ করলেন আন্দোলনকারীরা। এ দিন দুপুরবেলা পার্ক সার্কাস ধরনামঞ্চ থেকে একটি বিশাল মিছিল শুরু হয় এবং সেটি মৌলালি হয়ে ধর্মতলা পর্যন্ত পরিক্রমা করে। তারপর একটি প্রতিনিধিদল মুখ্য নির্বাচনীয আধিকারিক-এর অফিসে গিয়ে ডেপুটেশন জামা দেন। এর মধ্যে মাঝপথে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি হয়।পুলিশ ধর্মতলায় আন্দোলনকারীদের গায়ে হাত তুলেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছিল এবং পুলিশ অবশেষে অভিযোগ অস্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে। এ দিকে কমিশন সাধারণ মানুষকে বেনাগরিক করার চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
![]() |
| মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ। |
এ দিকে আন্দোলনকারীদের একটি টিম নির্বাচন কমিশনের অফিসে স্মারকলিপি জমা করে ফিরে এসে তারা অভিযোগ করেন, আমরা আমাদের দাবির কথা জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশন প্রতিটি পদক্ষেপ যে অবনতান্ত্রিক এবং আইন বিরোধী সে কথাটা আমরা জানিয়েছি এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকএর দফতরের কর্মীরা জানিয়েছেন তারা দিল্লিতে বিষয়টি জানাবেন। সবকিছু কোর্টের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। তারা বলেন, আমরা কমিশনকে যখন সঠিক দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছি তখন কমিশন বলছে আমাদের কিছু করার নেই বর্তমানে বিষয়টি আদালত দেখছে। তাহলে ভোটাররা কি তাদের সব অধিকার হারিয়ে ফেলবে? এই প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। এই মিছিলে বহু পড়ুয়া, নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। নেতৃত্বে ছিলেন আলিয়ার অধ্যাপক সাইফুল্লাহ। এছাড়াও সামনের সারিতে ছিলেন ড. সাইদুল ইসলাম, নিসা বিশ্বাস, জাহানারা খাতুন, অধ্যাপক শাইন শেখ, অধ্যাপক আবু, সাজিদুর রহমান, এডভোকেট আসিফ রেজা আনসারী, শেখ সালমান, সন্দীপ আহমেদ ফরিদুল ইসলাম, তানিয়া পারভীন, রাহুল চক্রবর্তী,আলতাফ আমেদ প্রমুখ।
![]() |
| মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ। |
মিছিলে অংশগ্রহণ করে সবাই বলেন, নির্বাচন কমিশন একটার পর একটা এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করছে। সবার মুখে একটাই বক্তব্য-নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে বিজেপির সুবিধা করে দিতে চাইছে।নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতায় প্রশ্ন তুলছে পার্ক সার্কাস ধরনামঞ্চের আন্দোলনকারীরা। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা তাহলে সংবিধান মেনে সমস্ত মানুষের অধিকার রক্ষা করা তার প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত। কিন্তু কমিশন প্রান্তিক শ্রেণি বিশেষ করে সংখ্যালঘু, দলিত ও আদিবাসীদের নাম বাদ দিচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য নিকৃষ্টতম উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত থাকবে।


0 Comments