বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগে নির্বাচন কমিশনের বহু খামখেয়ালিপণার অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার বিচারাধীন ভোটারদের পরিচয় কেড়ে নিতে চাইছে কমিশন। বৃহস্পতিবার দেখা যাচ্ছে, আন্ডার এডজুডিকেশন বা বিচারাধীদের আর ভোটার বলে মানতে চাইছে না কমিশন। এর আগে কমিশনের ওয়েবসাইট-এ গিয়ে যাচাই করলে লেখা থাকতো যে, ''ইলেক্টর ইস আন্ডার এডজুডিকেশন'' অর্থাৎ বিচারাধীন হলেও ভোটার বলে মানত কমিশন, এবার থেকে সেটাকেও মানতে নারাজ কমিশন। বিচারাধীদের এপিক নম্বর সার্চ করলে দেখা যাচ্ছে লেখা আছে, ''দিস ইন্ডিভিজুয়াল ইস আন্ডার এডজুডিকেশন'। এখানে ব্যক্তি বলা হচ্ছে, আর ভোটার মানতে চাইছে না কমিশন। এরই বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষোভ প্ৰকাশ করছেন।
এ দিকে গত ৪ তারিখ থেকে এসআইআর বিরোধী আন্দোলন করছে বহু মানুষ। পার্ক সার্কাস ময়দানে একটি ধরনামঞ্চ তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে আন্দোলনকারীরা বলেন, একের পর এক নির্বাচন কমিশন যেভাবে খামখেয়ালিপনা করছে তাতে তাদের মনে হচ্ছে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে বেনাগরিক করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। যুগ যুগ ধরে এদেশে বসবাস করার পরেও সাধারণ মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে। এর বৈধতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলছেন। এই বিষয়কে সামনে রেখে আগামী ২৭ তারিখ কলকাতা একটি বড় গণকনভেশন হতে চলেছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
জানা গিয়েছে, পরের দিন ২৮ তারিখ পার্ক সার্কাস ময়দান থেকে একটি মিছিল নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত যাবে বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে। সর্বোপরি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত অব্যবস্থার অভিযোগ তুলছেন সাধারণ মানুষ। সংখ্যালঘু, দলিত এবং পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষের মধ্যে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কারণ, বেছে বেছে সেইসমস্ত এলাকায় অধিকাংশ ভোটারকে বিবেচনাধীন করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে তাতে সে সমস্ত এলাকার ভোটারদের এখনও কোনও নাম সম্পূরক অর্থাৎ সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় প্রকাশিত হয়নি। স্বাভাবিকভাবে কবে প্রকাশিত হবে, তারা ভোট দিতে পারবেন কি না, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তাই সাধারণ মানুষ নির্বাচন কমিশনের এই চূড়ান্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন।

0 Comments