বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: সম্প্রতি ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে মুসলিম বিদ্বেষী আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। গঙ্গা নদীর মাঝখানে একটি নৌকায় শান্তিপূর্ণভাবে ইফতার অনুষ্ঠান আয়োজন করার অপরাধে ১৪ জন মুসলিম যুবককে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন হিন্দুত্ববাদীদের হয়ে এমন করেছে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, যুবকরা সারাদিন রোযা রাখার পর নৌকায় ইফতার করছিলেন। অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, ইফতারের সময় তারা মুরগির বিরিয়ানি খেয়েছিলেন এবং খাবারের অবশিষ্টাংশ নদীতে ফেলেছেন। এই সামান্য অজুহাতকে পুঁজি করে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা দাবি করছে যে, এতে নাকি তাদের কথিত "ধর্মীয় অনুভূতি’তে" আঘাত লেগেছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, যেখানে গঙ্গা নদীতে প্রতিদিন টন টন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, সেখানে মুসলিম যুবকদের ইফতার করা বা খাবারের অবশিষ্টাংশ ফেলা কেন প্রশাসনের কাছে এতো বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়াল? এটি কি কেবল ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়, নাকি মুসলিমদের টার্গেট করে হেনস্তা করার আরও একটি পরিকল্পিত কৌশল? কোনও ঘটনার সঙ্গে যখনই মুসলিম নাম জড়িয়ে যায়, তখনই প্রশাসন কেন এতোটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে? মানবাধিকার কর্মীদের মতে, তুচ্ছ কারণে মুসলিম যুবকদের এভাবে গ্রেপ্তার করা ভারতের তথাকথিত গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক চরম লজ্জা। এই ধরনের দমনমূলক আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি। বহু সংগঠন ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

0 Comments