বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদল তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হতেই মালদহ জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর-চর্চা শুরু হয়েছে। এবার জেলায় প্রার্থী তালিকায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বদল হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী যেমন টিকিট পাননি, তেমনি বর্তমান বিধায়ককেও টিকিট দেয়নি দল। অন্যদিকে বাইরে থেকে দুই বহিরাগত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকেও প্রার্থী করা হয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা আসনে এবার টিকিট পাননি দাপুটে মন্ত্রী তথা বিধায়ক তজমুল হোসেন। সেখান থেকে প্রার্থী করা হয়েছে, মতিবুর রহমানকে। এলাকায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে প্রতিদিনই চর্চায় থাকে হরিশ্চন্দ্রপুর। সেখানে মন্ত্রী তজমুল ও দলের জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খানের গোষ্ঠীর লড়াই সুবিদিত। এর জেরেই তজমুলকে টিকিট দেওয়া হল না বলে মনে করছে একাংশ। অন্যদিকে টিকিট পাননি চাঁচলের বিধায়ক নীহার রঞ্জন ঘোষও। সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন পুলিশকর্তা প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। চর্চায় থাকলেও প্রার্থী তালিকায় নাম নেই ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরির। গুরুতর অসুস্থ থাকায় এবার টিকিট পাননি মানিকচকের বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রও।
জেলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া কোনো পদক্ষেপ নয়। নিচুতলার একাধিক গোপন সমীক্ষা, ভোটব্যাঙ্কের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং স্থানীয়স্তরের সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়াকে প্রশমিত করতেই শীর্ষ নেতৃত্ব এই অবস্থান নিয়েছে। মালদহের মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর জেলায় অতীতের দীর্ঘ আনুগত্য বা ব্যক্তিগত প্রভাবের চেয়েও এবার প্রার্থীর বর্তমান জনসংযোগ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হল শাসকদলের অন্দরের ক্ষোভ। নির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে যারা টিকিট পাননি তাদের অনুগামীরা অভিমান ভুলে দলের নতুন প্রার্থীর হয়ে কতটা মাঠে নামবেন, নাকি অন্তর্ঘাতের পথ বেছে নেবেন, সেটাই শাসকদলের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

0 Comments