আসিফ রেজা আনসারী
২০২৬ সাল বা ১৪৪৭ হিজরি সনে যারা পবিত্র হজ করতে যাবেন তাদের আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই বকেয়া টাকা জমা করতে হবে, এমনই নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় হজ কমিটি। ভারত সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের অধীন হজ কমিটি অফ ইন্ডিয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে যারা পবিত্র হজ পালন করতে সউদি আরবের উদ্দেশ্যে যাবেন, তাদের বকেয়া টাকা আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
হজ কমিটির সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রথম এবং দ্বিতীয় কিস্তি মিলিয়ে প্রত্যেক ইচ্ছুক হজযাত্রী ২ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা করে জমা করেছেন। বাকি টাকা সবাইকে এইবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে জমা দিতে হবে। হজ কমিটির সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেক হজযাত্রী পিছু আনুমানিক খরচ ধার্য হয়েছে ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩০৮ টাকা ৬৪ পয়সা। এর বাইরে নির্দিষ্ট যে উড়ান পয়েন্ট রয়েছে অর্থাৎ যে জায়গা থেকে সউদি যাত্রার উদ্দেশ্যে বের হবেন হজযাত্রী, সেখানকার প্লেনের খরচ তাকে বহন করতে হবে। শুধু তাই নয়, যারা হজের পাশাপাশি সেখানে কুরবানীতে অংশগ্রহণ করতে চান তার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থও জমা করতে হবে বলে জানিয়েছে হজ কমিটি।
জানা গিয়েছে, এই বছর দেশের প্রায় ১৭টি জায়গা থেকে হজের উড়ান সউদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। সবচেয়ে বেশি খরচ পড়ছে তাদের যারা অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়া শহর থেকে হজের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেই হজযাত্রীদের কুরবানী বাদ দিয়ে ৪ লাখ ৯ হাজার টাকা করে খরচ হিসেবে দিতে হবে। ইতিমধ্যে তারা ২ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা জমা করেছেন। এছাড়াও আরও ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৭০০ টাকা প্রত্যেক হজযাত্রীকে দিতে হবে। আর এই বছর সবথেকে কম খরচ পড়ছে গুজরাতের আহমদাবাদ থেকে যে সমস্ত হজযাত্রী সউদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। তাদের মোট খরচ পড়ছে ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ২০০ টাকা। ইতিমধ্যে অন্যান্য হজযাত্রীর মত তারাও জমা করেছেন ২ লক্ষ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা। ফলে তাদের আর মাত্র ৫৫ হাজার ৯০০ টাকা জমা করতে হবে। এ দিকে কলকাতা যে সমস্ত হজযাত্রী সউদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন, তাদেরকে আরও ৯১ হাজার ৪০০ টাকা করে জমা দিতে হব। কলকাতা থেকে যে সমস্ত হজযাত্রী সউদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন তাদের মোট খরচ পড়ছে ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার ৭০০ টাকা।
![]() |
| TBM Graphic |
হজ কমিটি অফ ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক হজযাত্রী ভারতীয় জীবন বীমা নিগম এবং স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তরফে দুর্ঘটনা জড়িত কারণে বীমার সুযোগ পাবেন। এছাড়া হজ সুবিধা স্মার্টওয়াচ এবং তাতে রোমিং ডাটা-সহ সিম থাকবে সেইটিও হজের খরচের মধ্যে ধরা হয়েছে। এই হজের সমস্ত খরচাদি ধরা হচ্ছে তা ১ মার্কিন ডলারকে ভারতীয় টাকার ৯৪.৫০ টাকা এবং সউদি মুদ্রার মূল্যবান নির্ধারিত হয়েছে ভারতীয় ২৪ টাকা। পরবর্তী ক্ষেত্রে যদি মূল্যমানের পার্থক্য দেখা দেয় অতিরিক্ত অর্থ প্রত্যেক হাজীকে ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন হজ কমিটি। এর বাইরে যারা সরকারিভাবে কুরবানীতে অংশগ্রহণ করতে চান অর্থাৎ কুরবানী দিতে চান তাদেরকে ভারতীয় টাকায় ১৭,২৮০ টাকা অর্থাৎ ৭২০ সৌদি রিয়াল অতিরিক্ত হিসাবে দিতে বলে। শিয়া সম্প্রদায়ের যে হজযাত্রী সউদি আরবের উদ্দেশ্যে যাবেন তাদের মেকাত এবং ট্রাভেলিংয়ের একটু পার্থক্য রয়েছে, তার জন্য ভারতীয় টাকায় ৫ হাজার ৫,২০ টাকা অর্থাৎ ২৩০ সৌদি রিয়াল অতিরিক্ত অর্থ জমা দিতে হবে।
হজের টাকা জমা দেওয়া প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় হজ কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক হজযাত্রী কেন্দ্রীয় পোর্টাল থেকে তাদের কত টাকা দিতে হবে এবং অন্যান্য সমস্ত তথ্যাদি পেয়ে যাবেন। তার জন্য তাদেরকে হজ কমিটি অফ ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইট https://hajcommittee.gov.in অথবা হজ সুবিধা অ্যাপ থেকে দেখে নিতে হবে। সেখান থেকে অনলাইন চালান জেনারেট হবে বলেও জানানো হয়েছে। এই অনলাইন চালানে যে কেউ অনলাইন পেমেন্ট অর্থাৎ ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড কিংবা নেট-ব্যাঙ্কিং থেকেও টাকা জমা দিতে পারেন। অথবা পে-ইন স্লিপের মাধ্যমেও স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া অথবা ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে জমা করতে পারেন। অবশ্যই তাদেরকে টাকা জমা দেওয়ার স্লিপে হজ কমিটি থেকে রেফারেন্স নম্বরটি উল্লেখ করতে হবে। এই ইউনিক রেফারেন্স নম্বর উল্লেখ না থাকলে সমস্যা দেখা দেয়, তাই এ বিষয়টি স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে বলে জানিয়েছে হজ কমিটি। যেহেতু প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ফ্লাইট বুকিং করতে হবে তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া অর্থ প্রদান করার আবশ্যক বলে জানিয়েছে হজ কমিটি।
(সৌজন্যে- আপনজন)

0 Comments