'বিচারাধীন'দের ভোটার মানতে নারাজ কমিশন, সবার পরিচয় মুছে দেওয়া শুরু?

আসিফ রেজা আনসারী 

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগে নির্বাচন কমিশনের বহু খামখেয়ালিপণার অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার বিচারাধীন ভোটারদের পরিচয় কেড়ে নিতে চাইছে কমিশন। বৃহস্পতিবার দেখা যাচ্ছে, আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন বা বিচারাধীদের আর ভোটার বলে মানতে চাইছে না কমিশন।  এর আগে কমিশনের ওয়েবসাইট-এ গিয়ে যাচাই করলে লেখা থাকতো যে, ''ইলেক্টর ইস আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন'' অর্থাৎ বিচারাধীন হলেও ভোটার বলে মানত কমিশন। এবার থেকে সেটাকেও মানতে নারাজ কমিশন। বিচারাধীনদের এপিক নম্বর সার্চ করলে দেখা যাচ্ছে লেখা আছে, ''দিস ইন্ডিভিজুয়াল ইস আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন"। এখানে ব্যক্তি বলা হচ্ছে, আর ভোটার মানতে চাইছে না কমিশন।  এরই বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষোভ প্ৰকাশ করছেন।


নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে আমাদের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়েছে আর তার ফলে বুধবার ফ্রেশ ভোটারদের আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন দেখানো হয়েছে। কিন্তু অনেকে অভিযোগ করছেন ঘটনার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কারচুপি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যখন নির্বাচন কমিশন একদিকে দাবি করছে তাদের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়েছিল ঠিক তার পরেই দেখা যাচ্ছে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন নামে থাকা ভোটারদের নামের পেছনে আর 'ভোটার' বা ইলেক্টর লেখা নেই। তাদের একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অর্থাৎ তাদেরকে ভোটার হিসেবে মানতে চাইছে না কমিশন। তাহলে কি কমিশনের বড় কোন চক্রান্ত রয়েছে? প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। 

এভাবে নির্বাচন কমিশন একটার পর একটা এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করছে বলে অভিযোগ করছেন আন্দোলনকারীরা। সবার মুখে একটাই বক্তব্য-নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে বিজেপির সুবিধা করে দিতে চাইছে। যেভাবেই হোক পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে তৎপর বলেও অভিযোগ করছেন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব। একইভাবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতায় প্রশ্ন তুলছে পার্ক সার্কাস ধরনামঞ্চের আন্দোলনকারীরা। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা তাহলে সংবিধান মেনে সমস্ত মানুষের অধিকার রক্ষা করা তার প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত। কিন্তু কমিশন প্রান্তিক শ্রেণি বিশেষ করে সংখ্যালঘু, দলিত ও আদিবাসীদের নাম বাদ দিচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য নিকৃষ্টতম উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। বিচারাধীন বলে দাগানোর তাদের ভোটার বলে মানতে নারাজ কমিশন। তাহলে কী এদের পরিচয় মুছে দেওয়া শুরু? 

Post a Comment

0 Comments