বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: সিপিএম বা বামেরা চিরকালই ক্যাডার বেসড পার্টি। চুল না পাকলে, সেখানে দলে পাকা জায়গা করা যায় না বলেই ধারণা রয়েছে। কিন্তু ২০১১ সালের তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর, যখন বামেরা কার্যতই দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তারপর থেকেই নিজেদের খোলনলচে পালটে তরুণ তুর্কিদের মাঠে নামানো শুরু করে বামেরা। সৃজন-শতরুপ-মীনাক্ষী-দীপ্সিতা-সায়ন-ময়ূখ-কলতান-সায়নদীপ-সপ্তর্ষি-সম্যজিত্-সহ একাধিক লতুন মুখের ঝাঁকে এখন মুখরিত বাম ব্রিগেড। আর এঁদের সঙ্গেই নবতম সংযোজন আফরিন বেগম। সবার জানা হয়ে গিয়েছে, আফরিন বেগমের এই উত্থান মূলত বামপন্থী গণআন্দোলনের দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। তিনি বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একনিষ্ঠ গবেষক। তাঁর মেধা ও সাংগঠনিক দক্ষতার সংমিশ্রণ তাঁকে দলের অভ্যন্তরে দ্রুত পরিচিতি এনে দিয়েছে। আফরিন প্রথাগত ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের যোগ্যতায় রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় নিজের স্থান সুনিশ্চিত করেছেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন হস্টেলে এক ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, তখন রাজপথে অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন আফরিন। সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে নজর কেড়েছিলেন এই গবেষক। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর ঝাণ্ডা হাতে তাঁর সেই লড়াকু ভূমিকা এবার তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে সংসদীয় রাজনীতির আঙিনায়। এর বাইরে গত ৯ মার্চ নিউটাউনের এক পাঁচতারা হোটেলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বাম প্রতিনিধিদের বৈঠকেও আফরিনকে দেখা গিয়েছিল। সেখানে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। মহম্মদ সেলিমের পাশে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সিপিএমের বক্তব্য পেশ করার পর থেকেই তাঁর নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এবার তিনি প্রার্থী।

0 Comments