বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য বড় মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। অ্যাসিড হামলায় ভুক্তভোগীদেরপুনর্বাসন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, অ্যাসিড হামলায় যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের জন্য সরকারি চাকরির সুযোগ তৈরির একটি সুস্পষ্ট নীতি তৈরি করুক রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি। আদালত জানিয়েছে, যদি কোনও কারণে সরকারি চাকরি দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে বেঁচে থাকার জন্য নিয়মিত জীবিকা ভাতা বা সাবসিস্টেন্স অ্যালাউন্স দেওয়ার নীতি তৈরি করতে হবে।
এই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে জানাতে হবে কেন এখনও পর্যন্ত অ্যাসিড হামলায় ভুক্তভোগীদের সরকারি দফতর বা সংস্থায় চাকরির মাধ্যমে পুনর্বাসনের কোনও প্রকল্প তৈরি করা হয়নি।” সুপ্রিম কোর্ট ৩ মাসের মধ্যে রূপরেখা তৈরির কথা বলেছে। বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, যদি চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাস্তব বা প্রশাসনিক সমস্যা থাকে, তবে অন্তত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি সুসংহত নীতি তৈরি করা উচিত। জানা গিয়েছে, অ্যাসিড হামলার শিকার শাহিন মালিকের একটি মামলার শুনানির সময় এমন নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতে শাহিনের পক্ষে বিনা পারিশ্রমিকে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা। আদালতের অনুরোধেই তিনি এই মামলায় প্রো বোনো (বিনামূল্যে) প্রতিনিধিত্ব করছেন।
![]() |
| TBM Graphics |
শাহিন মালিক জানান, অ্যাসিড হামলায় ভুক্তভোগীদের দৈনন্দিন জীবনে বহু ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন - ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, আধার কার্ড পাওয়া, সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন বা আপডেট করা, এমনকি মোবাইল সিম কার্ড কেনার মতো সমস্ত সাধারণ কাজই অনেক সময় অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। আদালতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরা হয় KYC বা ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ যাচাইকরণ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত ডিজিটাল উপায়ে চোখের মণি স্ক্যান, চোখের পলক ফেলা শনাক্ত করা বা আঙুলের ছাপ দেওয়ার মতো ধাপ থাকে। কিন্তু অ্যাসিড হামলায় মুখ বা আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয় না। ফলে ব্যাঙ্কিং বা অন্যান্য পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের বড় বাধার মুখে পড়তে হয়। এই পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে একাধিক ভুক্তভোগী আগে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছিলেন, যাতে বিকল্প ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল KYC ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ কেন্দ্রকে দেওয়া হয়। চলতি বছরের শুরুতে একই মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট অ্যাসিড হামলার অপরাধের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছিল।

0 Comments