খোদ অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের নামই 'বিচারাধীন', মুসলিম বলেই কী হয়রানি? প্রশ্ন ইন্তাজ আলির

আসিফ রেজা আনসারী

এসআইআর-এর পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে চারিদিকে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। রাজ্যের একটা বড় অংশের বৈধ ভোটারকে বিচারাধীন বলে দাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসছে। রাজ্যের অন্তত মন্ত্রী-বিধায়ক মিলিয়ে ৬জন মুসলিম বিধানসভার সদস্যকে একইভাবে বিচারাধীন বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, খোদ অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তথা রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী ইন্তাজ আলি শাহ-র নাম নেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়। শনিবার প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম 'অন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' বা বিচারাধীন করা হয়েছে। 

আরও অভিযোগ, বহু শিক্ষক, আইনজীবী, অধ্যাপককে বিচারাধীন বলে ভোটার তালিকায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। মালদা, মুর্শিদাবাদের মুসলিমদের নাম বেশি বেশি করে বিচারাধীন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অনেক জায়গায় ৬০ শতাংশের বেশি ভোটারকে বিচারাধীন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ইন্তাজ আলি শাহ-র নামটি সামনে এসেছে। তিনি প্রতিবেদককে জানান, ২০০২ সালে বেহালা পূর্ব বিধানসভার ভোটার ছিলেন। ২০২৫ সালেও তিনি বেহালা পূর্ব বিধানসভার ভোটার। আগে তিনি ২৫৪ নম্বর অংশের ভোটার ছিলেন, বর্তমানে তাঁর ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের অংশ নম্বর ২৫৬। বেহালা পূর্ব বিধানসভা তথা হরিদেবপুর থানার অন্তর্গত ঢালিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় হল তাঁর ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। তাঁর ছেলে এবং বৌমা ভোটার তালিকায় স্থান পেয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সাবেক বিচারক ও তাঁর স্ত্রীকে বিচারাধীন করা হয়েছে।

এ দিকে ভোটার তালিকা নিয়ে ইন্তাজ আলি শাহ বলেন, আমি বিচারক হিসেবে ১৯৮০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কাজ করেছি। তারপর রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকার পরেও সন্দেহ করবে কমিশন? তিনি বলেন, মুসলিম এলাকায় সবথেকে বেশি এমন ঘটনা সামনে এসেছে বলে খবর, তাই বলে আদালতের বিচারকদেরও ছাড়বে না কমিশন? পুরো এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা করে দিতে এভাবে হাজার হাজার বৈধ নাগরিককে দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলে দেওয়ার মধ্যে একটা বড় ধরনের ষড়যন্ত্র আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। 


TBM Graphics

প্রসঙ্গত, ইন্তাজ আলি শাহ ১৯৭২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাস করার পর আইন বিষয়ে স্নাতক হন। তারপর আইন পাস করেন সেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। তারপর রাজ্য বার কাউন্সিলের সদস্য হন এবং ওকালতি শুরু করেন। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারপর জুডিশিয়াল সার্ভিসে যুক্ত হন। অবসরে পর তিনি ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। 

Post a Comment

0 Comments