রাজ্যপালের বিশেষ সম্মানে ভূষিত মালদার বেটি লেফটেন্যান্ট ড. বিভা সামাদ্দার

বিশেষ সংবাদদাতা: সম্প্রতি রাজ্য সরকার পুরস্কার পেয়েছেন গবেষক ও অধ্যক্ষ আবদুল অহাব। এরই মধ্যে ফের মালদাবাসীর জন্য বড় আনন্দের খবর। ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের পুণ্যলগ্নে কলকাতার লোকভবন সাক্ষী থাকে মালদা জেলার এক অনন্য গৌরবের। লোকভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মালদার কৃতী কন্যা লেফটেন্যান্ট ড. বিভা সামাদ্দার পান পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ড. সি. ভি. আনন্দ বোসের হাত থেকে 'গভর্নর'স স্কুল অব অনার, এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড' (বন্দে মাতরম পুরস্কার)। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এনসিসি অফিসার, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী হিসেবে দেশ গঠনে তাঁর দীর্ঘ ও নিরলস অবদানের স্বীকৃতিস্বররূপ এই বিরল সম্মান প্রদান করা হয়।


সরকারিভাবে জানা গিয়েছে, ড. সামাদ্দার পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মহিলা এনসিসি অফিসার হিসেবে ইতিপূর্বে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের 'ডিফেন্স সেক্রেটারি কমেন্ডেশন' অর্জন করেছিলেন। তাঁর প্রশিক্ষণে ক্যাডেটরা জাতীয়স্তরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্যঅর্জন করে রাজ্য ও জেলার মুখ উজ্জ্বল করে চলেছেন। এই অনুষ্ঠানে ড. সামাদ্দারের মেন্টরশিপে গড়ে ওঠা এসইউও দীপক বাপারিও 'এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড'-এ সম্মানিত হন, যিনি ২০২৫ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে কন্টিনজেন্ট কমান্ডারের দায়িত্বপালন করেছিলেন। লোকভবনের এই নক্ষত্রখচিত সন্ধ্যায় ড. সামাদ্দারের সঙ্গে একই মঞ্চে সম্মানিত হন অস্কারজয়ী সাউন্ড ডিজাইনার রেসুল পুকুট্টি, চলচ্চিত্র পরিচালক সুজিত সরকার এবং দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও পদ্মশ্রী প্রাপকরা। এই সাফল্য প্রসঙ্গে ড. বিভা সামাদ্দার জানান, এই সম্মান তাঁর একার নয়, বরং তাঁর জন্মভূমি মালদা এবং তাঁর প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের যৌথ প্রাপ্তি। তিনি বিশ্বাস করেন প্রান্তিক জেলা থেকেও নিষ্ঠা ও দেশসেবার আদর্শ থাকলে জাতীয়স্তরে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে মালদার মেয়ের এই বিশ্বজয় আজ গোটা জেলার তরুণ প্রজন্মের কাছে এক শ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণা হয়ে রইল।

Post a Comment

0 Comments