বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: বিশ্বের যে কোন প্রান্তে হামলা বা গরম বাক্য বিনিময়ে সামনের সারিতে রয়েছে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি। কিন্তু তিনি ইরানের ক্ষেত্রে কিছুটা কৌশল অবলম্বন করছেন। আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে তিনি আগ্রহী নন, বরং সম্ভাব্য একটি পরমাণু চুক্তি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে আরও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে, স্পষ্ট জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইরান প্রসঙ্গে এই বার্তা দিলেন। জানা গিয়েছে, স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি একটি তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্প। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইরান প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রথম প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ চলাকালীন তিনি আমেরিকার সামরিক শক্তিকে আরও জোরদার করেছিলেন। এখন ইরানের প্রেক্ষিতে সেই শক্তির কথাই তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার প্রথম মেয়াদে আমি সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছিলাম, আর এখন সেই শক্তির একটি দল ইরানের উদ্দেশে অগ্রসর হচ্ছে। আশা করছি, আমাদের সেটি ব্যবহার করতে হবে না।” ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হবে কি না, এই প্রশ্ন উঠতেই ট্রাম্প জানান, ইতিমধ্যেই তাঁর কথাবার্তা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তিনি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর কথায়, “আমি কথা বলেছি, এবং আমি তা করার পরিকল্পনাও করছি। হ্যাঁ, আমাদের অনেক বড়, অত্যন্ত শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ এখন ইরানের দিকে এগোচ্ছে। ভাল হয় যদি সেগুলো আমাদের ব্যবহার করতে না হয়।"
বিশ্লেষকদের কথায়, ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে যেমন কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত মিলেছে, তেমনই অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতির বার্তাও স্পষ্ট। মার্কিন নৌবহরের শক্তিশালী উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে আমেরিকা প্রস্তুত। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত আশা, পরিস্থিতি যেন সেই পর্যায়ে না পৌঁছয়। ইরানকে ঘিরে আমেরিকার দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা এবং একইসঙ্গে সামরিক প্রস্তুতির উল্লেখ, দু’দিক সামলে এগোনোর ইঙ্গিতই মিলেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে। অন্যদিকে অনেকে দাবি করছেন ইরানও পাল্টা দিতে পারে। শুধু তাই নয় আরব বিশ্বের বহু দেশ আমেরিকার সঙ্গে না থাকার কথা জানিয়েছে। তাই পিছু হটতে চাইছে মার্কিন প্রশাসন।

0 Comments