বেনাগরিক করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নওসাদ

বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে মানুষকে উদ্ধার করতে নির্বাচন কমিশনকে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু কমিশন কিছু করছে না বলে অভিযোগ। এছাড়াও আরও নানান অভিযোগের বিহিত চাইতে নির্বাচন কমিশনের অফিস গেল আইএসএফ। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার কলকাতায় দলের চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী'র নেতৃত্বে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে যান। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করেন। মূলত বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর নামে যেভাবে মানুষকে আতঙ্কিত করা হচ্ছে, সেই বিষয়ে কথা হয়।

স্মারকলিপি জমার পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে নওসাদ সিদ্দিকী বলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সন্দেশখালি বিধানসভা এলাকার বেশ কিছু গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোটারদের বিএলও মারফত কিছু কাগজ বিলি করা হচ্ছে। সেখানে অনেককে ভারতীয় নাগরিক নন বলে দেখানো হচ্ছে। কোথাও বা জীবিতকে মৃত বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে এতে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সংবিধানের ৩২৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব পেয়েছে। কমিশনের কোনও এক্তিয়ার নেই কে নাগরিক, কে নাগরিক নয়, সেটা খোঁজা।

নিজস্ব ছবি 

নওসাদ সিদ্দিকী আরও জানান, এই বিষয়টি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে জানালে, তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে এইধরণের কোন বিজ্ঞপ্তি তাঁর দপ্তর থেকে দেওয়া হয়নি। মূলত তাঁর কাছে দাবি জানানো হয়েছে যে যারা এই কাজে লিপ্ত তাদের খুঁজে বের করে আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জেলাশাসককে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাংবাদিকদের আইএসএফ চেয়ারম্যান জানান, এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত থাকতে পারে। এগুলি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ওই অঞ্চলের বেশকিছু ভুক্তভোগী মানুষও নির্বাচন দফতরে হাজির ছিলেন। প্রতিনিধিদলে অন‌্যদের মধ্যে ছিলেন আইএসএফ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সদস্য আইনজীবী সাবির আলি, দলের দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সভাপতি আবদুল মালেক মোল্লা, সন্দেশখালি বিধানসভার দলীয় পর্যবেক্ষক আইনজীবী পৃথ্বীরাজ বিশ্বাস প্রমুখ। 

Post a Comment

0 Comments