আসিফ রেজা আনসারী
ড. মনজুর আলম একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, সমাজসচেতক, গবেষক; সর্বোপরি দূরদর্শী মানুষ। বিহারে জন্ম হলেও তাঁর বৈচিত্র্যময়কর্মধারা গোটা দেশকে আলোকিত করেছে। তাঁর জীবনের সুদীর্ঘ সময় তিনি কাজ করে গিয়েছেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংখ্যালঘু তথা মুসলিমদের আত্মোন্নতি, একইসঙ্গে দেশের ভাতৃত্ব রক্ষা ও বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ধারণাকে সুদৃঢ় করার জন্য। এই মানুষটিকেই স্মরণ করল কলকাতা শহর। বক্তারা বলেন, তাঁর কাজ সবসময়ই বর্তমান প্রজন্মকে প্রেরণা দেবে। আগামীতেও সেই কাজকে বজায় রাখতে হবে। ড. মনজুর আলমের স্মরণসভায় এমনই নানান কথা উঠে আসে বিশিষ্টদের মুখে।
বুধবার সন্ধ্যায় আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাসে ছিল বিশেষ স্মরণ ও প্রার্থনাসভা। এই প্রার্থনাসভার আয়োজন করেছিল মিল্লি কাউন্সিল, মুসলিম ইনস্টিটিউট ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত সমাজ গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অফ অবজেক্টিভ স্টাডিজ। এই মহতী সভায় উপস্থিত থেকে বিভিন্ন বক্তা উল্লেখ করেন তাঁর জীবনের নানান দিক।
![]() |
| ছবি তুলেছেন সমর পাল |
ড. আলি মনজুর সাহেবের জীবন ও কর্মের উপর আলোকপাত করেন। বাসির ইসমাইল সমাজ গবেষণা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সংযোগকে তুলে ধরেন। প্রফেসর ড. সরফরাজ আহমেদ ড. মনজুর আলম সাহেবের আলোকিত জীবনধারায় উদ্ভাসিত হয়ে কিভাবে আগামী প্রজন্ম দিশা পেতে পারে সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেন। সমাজকর্মী রাফে সিদ্দিকী মনজুর সাহেবের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান। মাওলানা শফিক কাসেমী দোয়া বা প্রার্থনা পরিচালনা করেন। অন্যদিকে ড. সাবা ইসমাইল ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে কিভাবে মডেল হওয়া যায় তা মঞ্জুর সাহেবের জীবনের নানান দিক তুলে ধরে উল্লেখ করেন।
রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমেদ হাসান বলেন, মনজুর সাহেব সাংবাদিকতার গুরুত্ব বুঝে তৈরি করেছিলেন নিউজ এজেন্স পুফিচার অ্যান্ড নিউজ অ্যানালিসিস বা ফানা। ভুল কথা বললে হবে না তথ্য দিয়ে কথা বলতে হবে,এই ছিল উদ্দেশ্য। গবেষণার জন্য তৈরি করেন ইনস্টিটিউট অফ অবজেক্টিভ স্টাডিজ। বহু গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশ করেছিলেন।
এই মহতী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজ-গবেষক সাবির আহমেদ, ছাত্রনেতা সাজিদুর রহমান, লেখক আবু সালেহ রেজওয়ানুল করীম প্রমুখ।

0 Comments