বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বহু আলোচিত ‘গুণ্ডা দমন বিল’ নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনার মধ্যে অবস্থান স্পষ্ট করল কেন্দ্র। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর বিবৃতি অনুযায়ী, বিলটি রাষ্ট্রপতি ফেরত পাঠাননি। রাষ্ট্রপতির বিবেচনা ও সম্মতির জন্য পাঠানো প্রস্তাবটি এখনও কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও দফতরগুলির পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজ্যপালের সংরক্ষণ করা বিলটি রাষ্ট্রপতির বিবেচনা ও সম্মতির জন্য কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তার পরে বিলের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে মতামত দেওয়ার জন্য সেটি কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও দফতরগুলির কাছে পাঠানো হয়। সেই প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি।
এ নিয়ে রাজ্যের মুখমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তুলে ধরেছেন বিবৃতি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধী এবং স্বার্থান্বেষী কিছু মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করছে যে রাষ্ট্রপতি বিলটি ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। শুভেন্দু লিখেছেন, ভিত্তিহীন প্রচার ও বিদ্বেষপূর্ণ গুজবের বিরুদ্ধে প্রকৃত তথ্য সামনে আনা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতি ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬’ ফেরত পাঠিয়েছেন বলে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলেই দাবি করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, যাচাই না-করা গুজবে বিশ্বাস করবেন না, সত্যেরই জয় হবে।
প্রস্তাবিত আইনে জননিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক বলে বিবেচিত কোনও ব্যক্তিকে প্রতিরোধমূলকভাবে আটক রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখার বিধান এবং নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তাদের আটকাদেশ জারির ক্ষমতাও বিলে রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, সংগঠিত অপরাধ ও হিংসাত্মক কার্যকলাপ মোকাবিলায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের আশঙ্কা, আইনের বিস্তৃত ক্ষমতার অপব্যবহার হতে পারে। ফলে বিধানসভায় পাশ হওয়ার সময় থেকেই বিলটি নিয়ে রাজনৈতিক এবং আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

0 Comments