দুর্গাপূজা নাকি শারদোৎসব ? মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ও রবীন্দ্রনাথ

রেহানা খাতুন 

দুর্গাপুজোর সময় কমিউনিস্টদের বইয়ের স্টল দেওয়া নিয়ে ফতোয়া জারি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকার প্রতিটি ধর্মের নিজস্ব আস্থায় বিশ্বাসী। মুসলিম, বৌদ্ধ প্রতিনিধি বিশাল লামা কিংবা আদিবাসী প্রতিনিধি—প্রতিটি ধর্মের মানুষ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্মপালন করছেন এবং তাতে কেউ বাধা দিচ্ছে না। কিন্তু এর মাঝেই একদল তথাকথিত বামপন্থী অধ্যাপক ছদ্মবেশে বেছে বেছে হিন্দু ও সনাতন ধর্মবিশ্বাসের ওপর আঘাত হানছেন বলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, কেন কপালে তিলক পরা, মাথায় শিখা রাখা, গলায় তুলসীর মালা ঝোলানো কিংবা গেরুয়া বসন পরিধানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে টার্গেট করা হবে?

এখানেই শেষ নয়, শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সনাতন ধর্মকে তারা কেবল একটি ‘সংস্কৃতিক’ বিষয় বলে মনে করে। সেই কারণেই তারা ‘দুর্গাপুজো’ শব্দটি মুখে না এনে ‘শারদোৎসব’ শব্দটি ব্যবহার করতে বেশি স্বচ্ছন্দ। রাজ্যের সমস্ত দুর্গাপুজো কমিটির উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ—যে সমস্ত তথাকথিত কমিউনিস্টরা পুজো প্রাঙ্গণে বইয়ের স্টল দিতে আসবেন, তাঁরা যদি ‘শারদোৎসব’-এর জায়গায় স্পষ্টভাবে ‘দুর্গাপূজা’ না লেখেন, তবে তাঁদের একটিও স্টল করতে দেওয়া যাবে না। তিনি জানান, বাংলায় নকশাল আন্দোলন থেকে শুরু করে কমিউনিস্টদের রোপণ করা এই দেশবিরোধী চিন্তাভাবনার বীজ উপড়ে ফেলার এটাই উপযুক্ত সময়। এই লড়াইয়ে প্রয়োজনে তিন মাস যুদ্ধ চললেও সরকার ও রাজ্যবাসী যে পিছপা হবে না, সে কথা জানিয়ে উপস্থিত সকলকে তৈরি থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।  তিনি বামপন্থীদের আক্রমণ করতে গিয়ে নানান মন্তব্য করেন।  স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শারদোৎসব বলে একটি নাটক লেখেন। দুর্গাপূজা না লিখে শারদোৎসব লিখতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি তাহলে ভুল করেছেন, প্রশ্ন তুলছেন বামপন্থীরা।

Post a Comment

0 Comments