আসিফ রেজা আনসারী
পশ্চিমবঙ্গে এখনই লাগু হচ্ছে না গুণ্ডা-দমন আইন। বৃহস্পতিবার এক মামলায় স্পষ্ট হল। এ দিন ‘পশ্চিমবঙ্গ গুণ্ডা কন্ট্রোল বিল’ বা গুণ্ডা দমন বিলের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই বিলটি এখনও পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়নি এবং রাজ্য সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়ায় এই মুহূর্তে এই মামলাটি অপ্রাসঙ্গিক। বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধানবিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, রাজ্যে সরকার বদলের পরেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রাজ্যের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংগঠিত অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের ব্যবস্থা করতে পাশ হয়েছিল এই 'পশ্চিমবঙ্গ গুণ্ডা বিল'। কিন্তু বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার আগেই এর বিভিন্ন ধারার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়।
এ দিন মামলাকারীর পক্ষে সওয়াল করেন বরিষ্ঠ আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি আদালতে যুক্তি দেন যে, প্রস্তাবিত এই বিলের বেশ কিছু ধারা অত্যন্ত স্বেচ্ছাচারী, অতিরিক্ত কড়া এবং সংবিধানের প্রদত্ত মৌলিক অধিকারগুলির পরিপন্থী। তাঁর মতে, এই বিলের খসড়ায় অত্যধিক পুলিশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রবল। যে খসড়া পাস হয়েছে সেইভাবে এই বিল কার্যকর হলে নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র এবং আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য ও রাজদীপ মজুমদার মামলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁরা জানান, পশ্চিমবঙ্গ গুণ্ডা কন্ট্রোল বিলটি এখনও পর্যন্ত রাজ্যপালের সম্মতি পায়নি এবং সরকারিভাবে কোনও বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়নি। তাই, এই আইন এখনও পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
এ দিন আদালতে দুইপক্ষের সওয়াল শোনার পর রাজ্য সরকারের যুক্তিকেই গ্রহণ করে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানায়, যেহেতু আইনটি এখনও নোটিফাই বা কার্যকরই হয়নি, তাই এর সাংবিধানিক বৈধতা যাচাই করার কোনও আইনি সুযোগ বা কারণ এই মুহূর্তে তৈরি হয়নি। সেই কারণেই জনস্বার্থ মামলাটি খারিজ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আদালত জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যখন আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যকর হবে, তখন মামলাকারীরা চাইলে ফের আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিতে পারে। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেশ কয়েকবার জানান গুন্ডাদের শায়েস্তা করতে তিনি নতুন আইন এনেছেন, তবে সেটা এখনই কার্যকর হচ্ছে না।

0 Comments