পকসো মামলায় জামিন পেয়েই নির্যাতিতা-সহ ৬ জনকে খুন করল অভিযুক্ত!

বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: একজন, দুজন নয়, ধর্ষণে অভিযুক্ত এক যুবকের বিরুদ্ধে দুই পরিবারের ছ’জনকে খুনের অভিযোগ উঠল। তেলঙ্গানার রঙ্গারেড্ডি জেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পকসো (POCSO) মামলায় জেল হয় রাজু কুমার নামে ৩৫ বছরের এক ব্যক্তির। কিন্তু জামিনে ছাড়া পেয়ে হঠাৎ তিনি পৌঁছে যান ধর্ষিতার বাড়িতে। রাত পৌনে ১১টা নাগাদ নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছে নির্যাতিতার মাকে ছুরি নিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারতে শুরু করেন। মহিলাকে বাঁচাতে এলে তাঁর মাকেও কোপান অভিযুক্ত যুবক। শুধু তাই নয়, এরপর তিনি নির্যাতিতাকে অপহরণ করে গ্রামের একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁকেও খুন করে পালিয়ে যান।


এত কিছুর পর নির্বিবাদে রাজু নিজের বাড়িতে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ গিয়ে নিজের স্ত্রী পার্বতী সারিথা এবং দুই সন্তানকে খুন করেন। আবার নিজের বাবাকে ফোন করে জানিয়ে দেন যে তিনি ছ’জনকে খুন করেছেন এবং নিজে আত্মঘাতী হবেন। এরপরেই ফোন বন্ধ হয়ে যায়। যদিও পুলিশ সূত্রে খবর, আত্মঘাতী হন নি তিনি। ছ’জনকে খুনের পর গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। অভিযুক্তের খোঁজে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে এই ব্যক্তির বিয়ে হয়। তাঁর ৪ এবং ১ বছরের দুই পুত্রসন্তান ছিল। বিয়ের পর তিনি শাবাদে থাকতেন। মে মাসে স্থানীয় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে গিয়েছিলেন। কাউন্সেলিংয়ের জন্য থানায় তিনবার ডেকেও পাঠালে পরিবারের তরফে দাবি বলা হয় তাঁর মানসিক পরিস্থিতি ঠিক নেই। নেশা ও জুয়া খেলতে গিয়ে প্রচুর টাকা দেনাও করে ফেলেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় খুন করে দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দেন। সন্দেহ এড়াতে এসি এবং ফ্যান চালিয়ে রেখে পালিয়ে যান। শুক্রবার ওই ব্যক্তির নিজের বাড়ি থেকে তিনজনের দেহ উদ্ধার হয় এবং নির্যাতিতার বাড়ি থেকেও দু’জনের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আর নির্যাতিতার বাড়ি থেকে কয়েকশো মিটার দূর থেকে নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার হয় যা নিয়ে এই মুহূর্তে গোটা পরিবেশ থমথমে হয়ে রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments