বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের কল্যাণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান 'নবচেতনা উৎসব'!

কলকাতা, ৪ জুলাই, ২০২৬: ইভেন্ট ম্যানিয়াক ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এর সহযোগিতায় গত ৪ জুলাই, শনিবার, কলকাতার বেহালা শরৎ সদন-এ সফলভাবে আয়োজন করেছিল 'নবচেতনা উৎসব'। সঙ্গীত, নৃত্য ও সংস্কৃতির এক মনোমুগ্ধকর সন্ধ্যায় বিশিষ্ট অতিথি, গুণী শিল্পী এবং অসংখ্য সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের সমাগমে অনুষ্ঠানটি এক অনন্য মাত্রা লাভ করেছিল। একই সঙ্গে এই আয়োজন সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র  কেয়া ঘোষ, লায়ন্স ক্লাব কলকাতার সভাপতি কিষাণ গোপাল কেজরিওয়াল এবং এম. এল. ডি. ডালমিয়া গ্রুপ-এর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগের প্রেসিডেন্ট মনীশ ডালমিয়া-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। অনুষ্ঠানজুড়ে সঙ্গীত ও নৃত্যের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ভারতীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরেছিল এবং শিল্প-সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রসারে আয়োজকদের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত করেছিল।


অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট নৃত্যগুরু সুস্মিতা মিশ্র -কে 'কলা আচার্য সম্মান'-এ ভূষিত করা। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য ও সংস্কৃতির প্রসার এবং দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান প্রদান করা হয়। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও দর্শকদের করতালিতে তাঁকে এই সম্মানে সম্মানিত করা হয়, যা অনুষ্ঠানের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে। এই অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থ বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের কল্যাণে প্রদান করার সিদ্ধান্ত। উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা এই মানবিক উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানান এবং সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এই প্রয়াসের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শ্রীমতী কেয়া ঘোষ বলেন, "সংস্কৃতি সবসময়ই মানুষকে একত্রিত করেছে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছে। শিল্প-সংস্কৃতির উদযাপনকে বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগ আমাকে অত্যন্ত আনন্দিত করেছে। এই ধরনের আয়োজন সহমর্মিতা, অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।" ইভেন্ট ম্যানিয়াক ফাউন্ডেশন-এর সভাপতি শোভন চক্রবর্তী বলেন, "'নবচেতনা উৎসব'-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে উদযাপন করার পাশাপাশি সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক অবদান রাখা। বিশিষ্ট অতিথি, শিল্পী, পৃষ্ঠপোষক, সংবাদমাধ্যম এবং দর্শকদের আন্তরিক সহযোগিতায় এই উদ্যোগ সফল হয়েছে। এই সাফল্য ভবিষ্যতেও সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণকে একসূত্রে বেঁধে আরও বৃহত্তর উদ্যোগ গ্রহণে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।"

Post a Comment

0 Comments