মুসলিম প্রতিবেশীর কাঁধে হিন্দু মায়ের শ্মশান যাত্রা, রীতি মেনেই শেষকৃত্য: বাদুড়িয়া

বিশেষ প্রতিবেদন, বেঙ্গল মিররঃ যখন সাম্প্রদায়িক হানাহানির বিষবাষ্পে ঝাপসা হয়ে আসছে সুনীল আকাশ, তখনই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিল উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া। হ্যাঁ, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় গুটিকয়েক হিন্দু পরিবারের আপদ বিপদে জলিল, জব্বার বা আসলাম হকেরাই তো ভরসা। বলছেন সুনীল দাস, অন্তত প্রামাণিক বা সৌরভ দাস। প্রসঙ্গত, মুসলিম প্রতিবেশীর কাঁধে চড়ে হিন্দু মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হলো স্থানীয় শ্মশানে। জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেলে বাদুড়িয়া ব্লকের জগন্নাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব যশোদা দাসের মৃত্যু হয়। যদিও ডাক্তাররা জানাচ্ছেন বার্ধক্যজনিত কারণেই মৃত্যু।
অন্তিম-যাত্রার ছবি তুলেছেন ইনামুল হক
উল্লেখ্য, অসহায় ওই মহিলার স্বামী মারা গেছেন প্রায় এক দশক আগেই। আর্থিক দিক থেকে অসচ্ছল যশোদা দেবীর দুই ছেলে বাইরে থাকে। বিধবা যশোদা গ্রামে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তি করেই দিন চালাতেন। মহেশপুর গ্রামের বাঁশের বেড়া দেওয়া এক চিলতে কুঁড়ে ঘরে থাকতেন তিনি। গ্রামের কয়েকটি হিন্দু পরিবার ছাড়া বাকি সবাই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন। রবিবার বিকালে ওই বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এলাকার মুসলিম প্রতিবেশীরাই হাসপাতালে ভর্তি করেন তাকে আর হাসপাতালে মৃত্যু হয় যশোদা দাসের। মুসলিম প্রতিবেশীরাই হাতেগোনা কয়েকটি হিন্দু পরিবারের লোকজনের সঙ্গে এসে শেষকৃত্যের কাজ শুরু করেন। নিজেদের অর্থে কেনা নামাবলী আর বাঁশের দোলায় করে মুসলিম প্রতিবেশীরাই কাঁধে করে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে বাদুড়িয়া শ্মশানে নিয়ে যান তাকে। হিন্দু ধর্মের রীতি মেনেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন শ্রদ্ধা ও ভক্তি ভরেই। সারা দেশে যখন সাম্প্রদায়িকতার বাতাবরণ তখুনি দেশ তথা বাংলার সনাতনী ঐতিহ্য ও চিরায়ত সংস্কৃতির পরিস্ফুটন। 'বাংলার মানুষ ধর্ম বোঝে না মানুষ পরিচয়ে বাঁচতে পছন্দ করে' বলছিলেন এলাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা।
সমব্যথী মুসলিমরাও

Post a Comment

0 Comments