বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম বাঁকুড়া জেলায় পা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার হুল দিবস উপলক্ষে রাজ্য সরকারের জনজাতি উন্নয়ন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত রাজ্যস্তরের মূল অনুষ্ঠানটি হয় বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে। সেখান থেকেই সিধু, কানু, চাঁদ এবং ভগবান বিরসা মুন্ডা-সহ সাঁওতাল বিদ্রোহের সমস্ত অমর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিনের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী খুদিরাম টুডু, দিবাকর ঘরামি, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, জ্যোতির্ময় সিং মাহাত-সহ বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার একঝাঁক বিধায়ক এবং প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ দিন মুকুটমণিপুরের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের বিকশিত ও স্বাধীন ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল জনজাতিদের এই ঐতিহাসিক শোষণ ও অত্যাচার বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই। তিনি বলেন, “আমরা যে আজ স্বাধীন ভারতে বসবাস করছি, ব্রিটিশদের দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছি, তার সোপান তৈরি হয়েছিল হুল বিদ্রোহের আগুন থেকেই। জল, জমি ও জঙ্গলের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই লড়াই আজও আমাদের সমাজে সমান প্রাসঙ্গিক।”
এরপরেই সাঁওতালি ভাষার স্বীকৃতি ও অটলজির ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আবিষ্কৃত ‘অলচিকি’ লিপিতে লেখা সাঁওতালি ভাষাকে অতীতে কেউ যোগ্য মর্যাদা দেয়নি। আমাদের শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রথম এই ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করে জনজাতি সমাজকে প্রকৃত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, জনজাতিদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ফসল ‘ঝাড়খণ্ড’ রাজ্যটিও গঠিত হয়েছিল অটলজির জমানাতেই।”

0 Comments