বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: কলকাতা পুরনিগমের ইতিহাসে প্রায় নজিরবিহীন ঘটনা। প্রশাসনিক প্রধান বনাম জনপ্রতিনিধির সংঘাত পৌঁছল একেবারে থানার দোরগোড়ায়। পুর-কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি ও সাংবিধানিক রীতিনীতি ভাঙা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সরাসরি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন পুরনিগমের চেয়ারপার্সন তথা সাংসদ মালা রায়। শুক্রবার, ২২ মে রাতে নিউ মার্কেট থানায় গিয়ে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগপত্র জমা দেন তিনি। একইসঙ্গে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে পুরনিগমের সচিবকেও। এই ঘটনার জেরে পুর-প্রশাসনের অন্দরে এক চরম প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এবং পুর-সচিবের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র প্রাসঙ্গিক ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করার দাবি জানিয়েছেন চেয়ারপার্সন। মালা রায় জানিয়েছেন, কলকাতা পুরনিগমের ১৯৮০ সালের আইনের ৯৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রতি মাসে অন্তত একবার পুরনিগমের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে মাসিক অধিবেশন বা হাউস ডাকা বাধ্যতামূলক। আইন অনুযায়ী, এই অধিবেশন ডাকার এবং তা পরিচালনা করার যাবতীয় প্রক্রিয়াগত ও আইনি ক্ষমতা এবং একচ্ছত্র অধিকার ন্যস্ত রয়েছে পুরনিগমের চেয়ারপার্সনের ওপর। চলতি মে মাসের ২২ তারিখ (শুক্রবার) দুপুর ঠিক দুটোয় তাঁর নির্দেশেই পুরনিগমের ৫৪তম মাসিক অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। মে মাস শেষ হতে আর মাত্র নয় দিন বাকি। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই এই বৈঠক ডাকা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু চেয়ারপার্সনের স্পষ্ট নির্দেশ এবং আইনি এক্তিয়ারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে পুরসচিব এবং পুর-কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে ‘অনিবার্য কারণ’ দর্শিয়ে ওই জরুরি অধিবেশনটি স্থগিত বা পিছিয়ে দেন।

0 Comments