বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: আপাতত কলকাতার তিলজলায় বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙার ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে ছিল শুনানি। এ দিন আদালতের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে অংশ ভাঙা হয়েছে সেটির অবস্থা যদি বিপজ্জনক হয়, সেক্ষেত্রে বাড়ির মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে ভাঙতে পারবে কলকাতা পুরনিগম। তবে আইন মেনে সব পদক্ষেপ করতে হবে পুলিশ ও পুরনিগমকে। এক প্রসঙ্গে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, একে তো ওই বহুতলের কোনও স্যাংশন প্ল্যান দেখাতে পারেনি মালিকপক্ষ। আবার ওই বাড়িটিতে ঠিক কী ব্যবসা হত, সেই সংক্রান্ত নথিও দেখাতে পারেনি মালিকপক্ষ। তাই আপাতত কোনও ব্যবসা চালানো যাবে না।
শুক্রবার হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে বাড়িমালিকের দাবি, “পুর-আইন মেনে বাড়ি ভাঙা হয়নি।” দাবি করা হয়েছে যে, ওই বহুতলে কোনও ট্যানারি চলছিল না। এ দিন পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাড়িমালিকের বিস্ফোরক দাবি, “বাড়ি ভেঙে দেওয়ার পরে থানায় ডেকে জোর করে লেখানো হয়েছে যে আগেই ভাঙার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের কোনও দফতর বাড়ি ভাঙছে সেটাও আমাদের বলা হয়নি।” বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর কাছে আর্জি জানানো হয় যে, “আর যেন বহুতলটি ভাঙা না হয়। এবং বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ ফেরত দেওয়া হোক।”
অন্যদিকে বাড়ি মালিকের দাবিকে নস্যাৎ করে পালটা রাজ্যের তরফে জানানো হয়, কারখানা চালানোর ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হয়নি। ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কোনও অনুমতি নেই। রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, নোটিশ দেওয়া হয়েছিল তবে তা বাড়ির মালিক নেননি। দু’পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর আপাতত তিলজলায় ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ নয় বলেই জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। জানা গিয়েছে, আগামী ২২ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

0 Comments