বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: আজ রবিবার ভারতের নির্বাচন কমিশন চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার পরপরই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। সূচি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল।
এই আদর্শ আচরণবিধি কী?
আসলে আদর্শ আচরণবিধি হল নির্বাচন কমিশনের জারি করা একগুচ্ছ নিয়মাবলি, যা নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের আচরণ সম্পর্কে নির্দেশ দেয়। এর মূল উদ্দেশ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা। নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এই বিধি কার্যকর হয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকে। কমিশন জানিয়েছে, আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হলে বেশ কিছু নিয়ম মানতে হবে যেমন-
ধর্ম, জাতি বা সাম্প্রদায়িক আবেগের ভিত্তিতে কোনও ধরনের আবেদন বা প্রচার চালানো যাবে না।
সমালোচনা অবশ্যই নীতি, কাজের ফলাফল এবং কর্মসূচির ভিত্তিতে করতে হবে। ব্যক্তিগত জীবনের ওপর আক্রমণ করা যাবে না।
সরকারি গণমাধ্যমকে শাসক দলের পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট প্রচারের কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
ঘুষ দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ছদ্মবেশ ধারণ করা বা ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় প্রচার চালানো, এই ধরনের বেআইনি কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ব্যক্তিগত বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন কিংবা প্রচারের কাজে অন্যের সম্পত্তি ব্যবহার করা যাবে না।
রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের সভা ও মিছিল সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে আগাম জানাতে হবে এবং লাউডস্পিকার বা জমায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে।
শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে পুলিশের নির্দেশ অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
মিছিলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পথ, সময় এবং শুরু ও শেষের স্থান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক বস্তু বহন করা কিংবা কুশপুতুল দাহ করা নিষিদ্ধ।
অন্য কোনও মিছিলের সঙ্গে সংঘর্ষ বা উত্তেজনা সৃষ্টি করা এড়িয়ে চলতে হবে।
ভোটগ্রহণের সময় রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় কোনও ধরনের প্রচার, মদ্যপান বা অতিরিক্ত ভিড় করা যাবে না। কেন্দ্রের সংলগ্ন শিবিরগুলোও হতে হবে সাদামাটা এবং সেখানে কোনও রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না।
সরকার নির্বাচনী প্রচারের জন্য কোনও ধরনের সরকারি পরিকাঠামো, সরকারি তহবিল বা সরকারি পদমর্যাদা ব্যবহার করতে পারবে না।
ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে, এমন কোনও আর্থিক অনুদান, নতুন প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বা অস্থায়ী নিয়োগের ঘোষণা করা যাবে না।
পরিবহন ব্যবস্থা, বিশ্রামাগার, ডাকবাংলো এবং সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য সরকারি স্থান—সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত রাখতে হবে।
নির্বাচনী ইশতেহার অবশ্যই সাংবিধানিক নীতি মেনে তৈরি করতে হবে, তা বাস্তবসম্মত হতে হবে এবং ভোটগ্রহণের আগে নির্ধারিত নিষিদ্ধ সময়ে প্রকাশ করা যাবে না।

0 Comments