বেঙ্গল মিরর ডেস্কঃ ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-র কাজে এবার সরাসরি যুক্ত হচ্ছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় কোন কোন নথিকে গ্রাহ্য করা হবে এবং আইনি খুঁটিনাটিই বা কী— তা নিয়ে যাতে কোনও বিভ্রান্তি না থাকে, সে জন্য সোমবার দুই দফায় বিশেষ বৈঠক হয়ে গেল কমিশন ও হাইকোর্টের। জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় নীতিনির্ধারক স্তরে আলোচনার পর দ্বিতীয় দফায় ভার্চুয়ালি জেলাস্তরের বিচারকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, প্রথম দফায় নীতিনির্ধারণী বৈঠক হয়। বৈঠকের প্রথম পর্বে জেলাস্তরের জুডিশিয়াল অফিসাররা ছিলেন না। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং আরও দু’জন বিচারপতি। প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের আধিকারিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার। এ ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার এবং স্পেশ্যাল অবজার্ভার সেখানে যোগ দেন। এই পর্বের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল, নিবিড় সংশোধনীর ক্ষেত্রে কোন কোন তথ্যের ওপর সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হবে। সারা দেশে এই সংশোধনীর ক্ষেত্রে কোন কোন নথিকে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে, তা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের বুঝিয়ে দেন কমিশনের প্রতিনিধিরা।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফায় ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ ও আইনি ব্যাখ্যা হয়। এই পর্যায়ে ভার্চুয়ালি যোগ দেন জেলাস্তরের জুডিশিয়াল অফিসাররা। উল্লেখযোগ্যভাবে, যে সব আধিকারিকদের কাজে কমিশন এখনও পর্যন্ত সন্তুষ্ট, তাঁরা সবাই এই বৈঠকে আমন্ত্রণ পান। নিবিড় সংশোধনীর কাজে নামতে গিয়ে বেশ কিছু আইনি প্রশ্ন ও জটিলতা সামনে এসেছে। সেই সমস্ত ধন্দ দূর করতে আইনের সঠিক ব্যাখ্যা এবং পদ্ধতিগত পরামর্শ দেন কমিশনের আধিকারিকরা।
প্রশাসনিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনীতির ময়দানে বারবার যে অভিযোগ ওঠে, বিচারকদের এই সরাসরি নজরদারি এবং প্রশিক্ষণের ফলে সেই অসংগতি অনেকাংশেই দূর হবে। ভোটার তালিকা হবে আরও নির্ভুল এবং বিতর্কহীন। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশন প্রতিদিন এসআইআর সংক্রান্ত অগ্রগতির রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা দেবে। কমিশনের চালু করা পোর্টালের প্রদর্শনও এদিন করা হয়। বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন কমিশনের প্রতিনিধিরা। পোর্টালে কীভাবে নথি আপলোড, যাচাই ও মুছে ফেলা হবে - সেই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়।

0 Comments