বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: অনেকেই মনে করছিলেন যে, চাপ, প্রত্যাশা, ইতিহাসের হাতছানি নিয়েই হবে ফাইনাল , কিন্তু দেখা গেলো শেষটা হয়ে উঠল প্রদর্শনী ম্যাচ! ইংল্যান্ডকে ১০০ রানে উড়িয়ে দিয়ে ষষ্ঠবারের জন্য অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ জিতল ভারত। আর এই একপেশে ফাইনালের কেন্দ্রে একটাই নাম—বৈভব সূর্যবংশী।বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে ১৭৫—সংখ্যাটা বড়, কিন্তু তার চেয়েও বড় ইনিংসের প্রভাব। মাত্র ৫৫ বলে সেঞ্চুরি! ইংল্যান্ডের বোলারদের উপর যেন ঝড় বইয়ে দিলেন বিহারের এই বাঁ-হাতি কিশোর। মোট ৩০টি বাউন্ডারি—১৫টি চার, ১৫টি ছক্কা। অর্থাৎ, ১৭৫ রানের মধ্যে ১৫০ রানই এল বাউন্ডারি থেকে।
অন্যদিকে, অধিনায়ক আয়ুষ মত্রের সঙ্গে ১৪২ রানের জুটিই কার্যত ফাইনাল শেষ করে দেয়। মত্রে খেলেন সংযত ৫৩ রানের ইনিংস। বৈভব আউট হওয়ার সময় ভারতের রান রেট এমন জায়গায় পৌঁছেছিল, যেখানে ৫০০ ছুঁয়ে যাওয়ার অনুমানও অবাস্তব ঠেকেনি। বৈভব ফিরলেও গতি থামেনি। অভিজ্ঞান কুণ্ডু, বেদান্ত ত্রিবেদী, বিহান মালহোত্রা, কনিষ্ক চৌহানরা স্কোরবোর্ড ঠেলে নিয়ে যান ৪১১/৯-এ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে এত বড় রান তাড়া করতে অলৌকিক কিছু দরকার ছিল। ইংল্যান্ড জানত, জেতার জন্য শুরু থেকেই ঝাঁপাতে হবে। কিন্তু নতুন বলে ভারতীয় বোলারদের শৃঙ্খলা ম্যাচের রাশ টেনে ধরে।
৪১২ রানের লক্ষ্যে নেমে ইংরেজরা কখনওই স্বচ্ছন্দ ছিল না। শুরুতেই চাপ। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পতন। মাঝখানে ক্যালেব ফ্যালকনার (Caleb Falconer) একাই লড়াই চালালেন। দ্রুততম যুব ওয়ানডে সেঞ্চুরি করে ইংল্যান্ডের ইনিংসে কিছুটা প্রাণ ফেরালেও, বিশাল লক্ষ্য তখনও বহুদূর৷ আজ ভারতের বোলাররা কাউকে ছন্দে থাকতে দেননি। অম্বরীশ, হেনিল, দীপেশ—সবাই দায়িত্ব ভাগ করে নেন। ফ্যালকনার আউট হতেই শেষ হয়ে যায় সমস্ত অপেক্ষা। ইংল্যান্ড থামে ৩১১-এ। জয়ের ব্যবধান ১০০ রান। এই পারফরম্যান্সের সুবাদে ভারত ষষ্ঠবার অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। শেষ আট বছরে তৃতীয় ট্রফি। কিন্তু এটা শুধু ট্রফির গল্প নয়, এক উজ্জ্বল প্রজন্মের ঘোষণাও বটে।

0 Comments