বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: পৃথিবীকে প্রতিটি শিশুর বাসযোগ্য করার জন্য একটা সুন্দর পরিবেশে রচনার বার্তা রেখেই তৈরি ছবি। যদিও ‘ওসিডি’ ছবিটা ঘরানার দিক থেকে সাইকোলজিকাল থ্রিলার। তবুও রয়েছে মেসেজ। এই সিনেমার বীজ প্রোথিত হয়ে আছে শৈশবের এক অনাকাঙ্খিত ট্রমায়। তাই বলতেই পারি ছবিটা এককথায় বহুস্তরীয়। প্রথম দৃশ্যে দেখা যায় এক শিশুর মনে কানে শোনার কথার কী মারাত্মক প্রভাব তৈরি হতে পারে। এই ছবির ভালো-মন্দ দিক নিয়ে আলোচনা এবং একটি বিশেষ স্ক্রীনিং হয় সাউথ সিটি মলের আইনক্স হলে।
এই সিনেমার কেন্দ্রে আছেন শ্বেতা (জয়া আহসান), যিনি পেশায় ডার্মাটোলজিস্ট। তার ছোটবেলা কেটেছে অত্যন্ত রক্ষণশীল ঠাম্মার সান্নিধ্যে। যে তাকে শিখিয়েছে ‘ক্লিনলিনেস ইজ গডলিনেস’। ঠাম্মি তাকে আরও শিখিয়েছে শরীর নোংরা হলে মনটাও অপরিষ্কার হয়ে যায়। এই মেয়েটি ছোটবেলায় এমন কিছু নোংরা অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়, যা তার মনে গভীর অভিঘাত রেখে যায়। সে ভাবতে থাকে, ভগবান যে সুন্দর পৃথিবী গড়েছেন, তাকে নোংরা করে তুলছে কিছু মানুষ। তাদের বয়স্ক বাড়িওয়ালা ভালোকাকুর (ফজলুর রহমান বাবু) ব্যাড টাচের অভিজ্ঞতা ছাপ রেখে যায় তার শিশুমনে। অন্যদিকে ঠাম্মার কথামতো পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস একসময় শ্বেতার ‘ওসিডি’-র রূপ নেয়। একটা মানুষের বেড়ে ওঠা, অতীত কীভাবে বাকি জীবনের দিক-নির্দেশ করে এই ছবিতে দেখার। শ্বেতার প্রতিশোধ স্পৃহার নেপথ্য কারণ হিসেবে উঠে আসে অতীত। তার মানসিক স্থিতি কীভাবে নড়ে যায় এবং সে পৃথিবীর জঞ্জাল সরানোর দায় নিয়ে নেয় নিজের দিকে। ঘটনাক্রমে তার জায়গা হয় অ্যাসাইলামে। অপরাধী শ্বেতার সঙ্গে দেখা করতে আসে এক জুনিয়র উকিল (কার্তিকেয় ত্রিপাঠী)। শুরুতে এই কথোপকথনের মাধ্যমে ছবির গল্প একটু একটু করে সামনে আসে। এভাবেই এগোয় গল্পটা।
পরিচালক সৌকর্য অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে চিত্রনাট্য বুনেছেন। দ্বিতীয়ার্ধ আরও চিত্রাকর্ষক ও টানটান উত্তেজনায় ভরা। শ্বেতা ও নতুন ভাই, অভিনয় : আর্শিয়া ও ঋষাণ)একসময় মুখোমুখি হয়। একজন মাকে হারিয়েছে অন্যজন বাবাকে। তাদের দেখা হচ্ছে শ্বেতার বাবার দ্বিতীয় বিবাহসূত্রে। অনবদ্য সেই আলাপের মুহূর্ত। সিনেমায় ওসিডি এবং পিডোফিলিয়া শুধু নয়, সমকামের প্রসঙ্গও এসেছে নির্ভার উচ্চারণে। তবে শ্বেতার ‘নোংরা’ সরানোর পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু কোনওভাবেই এই ছবিটিকে উপেক্ষা করা যাবে না। ক্যামেরার কাজ ও সম্পাদনা সিনেমার গতি ধরে রেখেছে নিখুঁতভাবে। সাউন্ড অসাধারণ।
অভিনেতা হিসাবে জয়া আহসান কেন্দ্রচরিত্রে নিজেকে সুন্দর করে তুলে ধরেছেন। তার রোগী তথা বান্ধবী সায়ানের চরিত্রে শ্বেতা ভট্টাচার্য একেবারে এফর্টলেস। অ্যাডভোকেটের রোলে কার্তিকেয় ত্রিপাঠী সাবলীল। কৌশিক সেন প্রতিবেশী কাউন্সিলারের ভূমিকায় দুর্দান্ত। বর্তমান বাজারে জনপ্রতিনিধিদের কালো দিক ফুটে উঠেছে। ঠাম্মার ভূমিকায় অনসূয়া মজুমদারও দারুণ। এছাড়াও ভালোকাকুর চরিত্রে ফজলুর রহমান বাবু, তাঁর স্ত্রীর রোলে কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, কিশোরী শ্বেতার চরিত্রে ভালোলাগে আর্শিয়া মুখার্জিকেও। সব মিলিয়ে এই ছবি প্রেক্ষাগৃহে দেখার। সমাজ বদলের বার্তা রাখা ছবি।
এ নিয়ে পরিচালক বলছিলেন, বর্তমানে যখন এপস্টিন ফাইল নিয়ে সমাজের একটা কালো দিক উঠে আসছে, ঠিক এই সময় ছবিটি বিশেষ বার্তা রাখতে পারে। যারা সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখে তাদের কাছে নতুন একটি বিষয় সামনে আসবে। সমাজকে আশেপাশের লোকজন কিভাবে বিষাক্ত করে তুলছে, এই দ্বিতীয় সহজে মানুষ উপলব্ধি করতে পারবে।

0 Comments