বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: সম্প্রতি কেসিসি অফস্টেজের সিজন ২ এর, ৫ম পর্বে ভ্যালেন্টাইন্স ডে উদযাপিত হল 'শুধু তোমাকেই ভালবেসে কালেক্টিভ'-এর গানের সুরে। পূর্বে এই মঞ্চে কবীর সুমন, অঞ্জন দত্ত, ইমন চক্রবর্তী প্রমুখ উজ্জ্বল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সংগীতজগতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় ভরসা রেখে দর্শকমন নিশ্চিন্তে হল ভরিয়েছেন। গত শুক্রবারও তার অন্যথা হয়নি, ২ বছর বয়সী আধুনিক বাংলা গানের দল 'এস টি বি কালেক্টিভ' ও সগৌরবে হাউসফুল পতাকা উড়িয়েছে এই মঞ্চে। তাদের 'নিজেদের গান' এর ঝুলি থেকে করে বের করেছে মোট ১৭টি ভালোবাসার পোস্টকার্ড যা সুরের হাওয়ায় ছড়িয়ে গেছে কান থেকে মনে। তাদের গানগুলি (শুধু তোমাকেই ভালোবেসে, আবার ভালোবেসে ফেলেছি তোমায়, চাঁদের বুড়ি) পরিচিত তবে অনুষ্ঠানের শুরুতেই দর্শককে তারা খোলসা করে দেয় যে আগামী ২ঘন্টা শুধু গান শোনানোর নয়।
প্রথমেই স্ক্রিপ্টের বুনন। তাদের প্রত্যেকটি 'প্রেমের গান'গুলির একমুখী দৃশ্য ভেঙে যোগ করা হয়েছে অন্য মাত্রা। এসেছে উন্নাও, আরাবল্লী পর্বত, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, যুদ্ধে শিশুমৃত্যুর মত রূঢ় বাস্তবচিত্র। যেন দর্শককে বারবার বলে 'সংবেদনশীল হন'। তারপরেই বুদ্ধিমত্তার সাথে এস এফ এক্সের ব্যবহার। আন্তর্জাতিক স্তরে আমরা প্রায়ই দেখতে পাই আলো এবং শব্দের ব্যবহারে একটি গানের অনুষ্ঠান আরও মনোগ্রাহী হয়ে উঠছে। বাংলাতে শিলাজিৎ মজুমদার বহুদিন ধরেই এই ব্যবহার সফলতার সাথে করে আসছেন, 'এস টি বি সি'ও সেই পথেই হাঁটলো। সবশেষে আলো এবং সমগ্র ব্যবস্থাপনা 'অফস্টেজ' নামটির সার্থকতা অক্ষুন্ন রেখেছে।
নীলাঞ্জন, সুধাবর্ষী, ঋতবান, প্রীতম, অর্ঘ্য- মঞ্চে উপস্থিত ৫জন তরুণতুর্কীর অনুভূতির অনাবিল প্রকাশ দর্শকের কাছে তদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়। গানের কথা-সুরের মতই সহজ তাদের হাবভাব যেন খোঁচা মারে নস্টালজিয়ায়। স্কুলে টিফিন ভাগ, ঘাসে ফুটবল, লোডশেডিঙে লুকোচুরি- ওরা মনে করিয়ে দেয় সহজ দিনগুলো। নীলাঞ্জনের ভাষায়, ওদের গানগুলো শুনতে মিথ্যে দেখতে সত্যি। এবং এই মিথ্যে ওরা হাজারবার বলতেও রাজি, যতদিন না সত্যি হয়।
'মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জ্যোৎস্নার প্রান্তরে' ৫টি ছেলে সাদা জামা পড়ে দর্শকের সামনে দাঁড়িয়ে ভালোবাসার সমবেত সুরে গেয়ে ওঠে 'এই পাঁজর ভরা ভালোবাসা, দু'হাত ভরে নাও', কথা রাখে সকলে। আধুনিক বাংলা স্বাধীন গানের জগতে সদ্য ফোটা এই নক্ষত্রের টিমটিমে আলোর সাক্ষী হবে আরও কোটি কোটি মন। সেই ভালোবাসার জ্যোৎস্না যেন সবসময় ছুঁয়ে থাকে এস টি বি কালেক্টিভের দর্শকদের। শহরে ওই একইদিনে ছিলো আরও বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গানের অনুষ্ঠান- রবীন্দ্র সদনে ভালোবাসাবাসি (লোপামুদ্রা-জয়, সোহিনী-শোভন), জি ডি বিরলা সভাঘরে হুলিগানইজম (অনির্বাণ, দেবরাজ, শুভদীপ) ইত্যাদি। তবে প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানই সফল ভাবে ভালোবাসার ফুল ফুটিয়েছি। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আবহাওয়ায় শহর কলকাতা কবিতা-গানে-গল্পে আবার ভরসা রাখতে শিখিয়েছে প্রেম-চুমু-ভালোবাসায়।

0 Comments