মাদ্রাসা: অগ্নিমিত্রার মন্তব্যের প্রতিবাদে বড় আন্দোলনের ডাক শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সমিতির

বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: সম্প্রতি বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল মাদ্রাসা শিক্ষা সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। অভিযোগ, বিজেপি বিধায়ক মুসলিমদের একটা অংশকে জঙ্গি বা সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করেছেন। এ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে বাংলার শিক্ষামহল। রাজ্যে সরকার পরিচালিত বিভিন্ন মাদ্রাসায় বহু অমুসলিম শিক্ষক রয়েছেন, শুধু তাই নয় বহু অমুসলিম ছাত্র-ছাত্রী সেখানে পড়াশোনা করে। তাই মাদ্রাসা সম্পর্কে পরিচিত এবং সমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরির একটা চেষ্টা এমনই মন্তব্য করে গর্জে উঠল মাদ্রাসা শিক্ষক শিক্ষাকর্মী সমিতি। সংগঠন শনিবার দুপুরে কলকাতার এক সভাঘরে বিশেষ বৈঠকে বসেছিল। মাদ্রাসা শিক্ষক শিক্ষাকর্মী সমিতি এই সভা থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গর্জে ওঠে। সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান, সহসম্পাদক শিক্ষক আবু সিদ্দিক খান, সভাপতি শেখ গোলাম মইনুদ্দিন। এছাড়া অসংখ্য অমুসলিম শিক্ষক এই সভায় উপস্থিত থেকে অগ্রিমিত্রা পলের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন এবং তাকে ক্ষমা চাওয়ার উচিত বলে মন্তব্য করেন। 

বক্তারা বলেন, মাদ্রাসা কথার অর্থ হচ্ছে স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটা ঠিক যে রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে অপশনাল ১০০ নম্বরের ইসলাম পরিচয় বিষয়ে পড়াশোনা হয়। তার বাইরে সাধারণ স্কুলের সিলেবাসের মতোই পড়ানো হয়। এখানে প্রায় ৪০ শতাংশ অমুসলিম শিক্ষক রয়েছেন। এমনও বহু মাদ্রাসা রয়েছে যেখানে অমুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যায় বেশি। গোটা বাংলায় প্রায় ১৫ শতাংশ অমুসলিম পড়ুয়া সরকারি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। মাদ্রাসা থেকে বহু ছাত্র-ছাত্রী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইএএস, আইপিএস তৈরি হচ্ছে। তারপরও যেভাবে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে তা বিশেষ একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে মাদ্রাসার শিক্ষকরা মনে করেন। 

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্টরা

বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে মাদ্রাসা শিক্ষকরা বলেন, হুগলী জেলার এক মাদ্রাসা পড়ুয়া মুহাম্মদ ইসরাইল ডব্লিউবিসিএস এক্সিকিউটিভ পরীক্ষায় ২২ রাঙ্ক করে বিডিও হয়েছেন। বীরভূমের আমাইপুর হাই মাদ্রাসার ছাত্রী জয়নাব খাতুন বিজ্ঞানী হিসেবে আমেরিকায় কর্মরত। এছাড়া মাদ্রাসা ছাত্রী আমেরিকায় প্রফেসর পদে নিযুক্ত হয়েছেন। মুর্শিদাবাদের নাচনা হাই মাদ্রাসার ছাত্র সাইদুর রহমান আমেরিকার অন্যতম সেরা পদার্থ বিজ্ঞানী। ২০২৩ সালের নিট কোয়ালিফাই করে ডাক্তারি পড়ুয়া কুরআনের হাফেজ হয়েছেন কয়েকজন। ২০০৮ সালে দেওবন্দ মাদ্রাসার ছাত্র ও অসিমুর রহমান ইউপিএসসি পরীক্ষা পাস করে আইএএস হয়েছে। অগ্নিমিত্রা পল আগামীতে ক্ষমা না চাইলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা। তারা বিধানসভার স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, অবিলম্বে যেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। না হলে তারা আন্দোলনের নামবেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা। এ দিনের সভার আগে যে সাংবাদিক সম্মেলন হয় সেখান থেকে অগ্নিমিত্রা পলের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন অমুসলিম শিক্ষকরা। তারা বলেন, আমাদের অস্তিত্ব এবং ছাত্রদের মানুষ তৈরির যে প্রচেষ্টা তাকে অপমানিত করেছেন বিজেপি বিধায়ক। সামগ্রিকভাবে শিক্ষক সমাজকে এভাবে অপমানিত করার কোনও বিষয়ে তারা মেনে নেবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 

Post a Comment

0 Comments