বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: গোটা দুনিয়ায় মুসলিমদের উপর নির্যাতন চলছে, এর থেকে মুক্তি পেতে হলে সবাইকে শিক্ষিত হতে হবে। মুসলিমদের এটা নিয়ে ভাবতেই হবে। মাওলানা আনোয়ার হোসেন কাশেমী পরিচালিত সুন্দরবন আল-মানার মিশনারী গার্লস স্কুলের ১১তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে এভাবেই বক্তব্য রাখলেন বিশিষ্টরা। সোমবার সকালের প্রথম প্রহর থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। তারপর ছিল পবিত্র ক্বেরাত, গজল পরিবেশনা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি, ক্যুইজ প্রতিযোগিতা ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
এই উপলক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল' বোর্ডের সদস্য ও সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ কামরুজ্জামান-সহ বহু বিশিষ্টজন। সকলেই তাঁদের বক্তব্যে নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও নৈতিক শিক্ষার অপরিহার্যতার কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, “সুন্দরবন আল-মানার মিশনারী গার্লস স্কুল শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি আদর্শ মানুষ গড়ে তোলার একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র।”তাঁরা বিদ্যালয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং এই ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে, যেখানে আরও নানা পরিবেশনা ও আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। সব মিলিয়ে ১১ বছরের পথচলায় সুন্দরবন আল-মানার মিশনারী গার্লস স্কুল একটি সফল, সম্মানজনক ও আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা আগামী দিনেও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। শিক্ষা বিস্তারে প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকায় সুনামের সঙ্গে কাজ করে চলেছে বাসন্তী চুনাখালি এডুকেশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।
![]() |
| বক্তব্য রাখছেন কামরুজ্জামান। রয়েছেন আনোয়ার হোসেন কাসেমীসহ বিশিষ্টজন। |
মাওলানা আনোয়ার হোসেন কাসেমীর উদ্যোগে এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে
পরিচালিত হচ্ছে সুন্দরবন আল-মানার মিশন
এবং খারেজী মাদ্রাসা। শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে
বহুমুখী কাজ শুরু করছে
ফাউন্ডেশন। আন্তরিকতার সঙ্গে এ কাজে মেহনত
করে চলেছেন তরুণ সমাজসেবী মাওলানা
আনোয়ার হোসেন কাসেমী। সঙ্গে রয়েছে তাঁর সহযোগী মিশনের
সভাপতি আবদুল মাজিদ মোল্লা, আবদুল কাশেম লস্কর, রহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সুন্দরবন আল-মানার মিশন-এর ১১তম প্রতিষ্ঠা
দিবস উদযাপন উপলক্ষে বাসন্তীর নির্দেশখালী হিন্দু-মুসলিম সব ধর্মের মানুষের
উপস্থিতিতে হয়ে ওঠে মহামিলন
ক্ষেত্র। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় হিন্দু- মুসলিম ও উভয় সম্প্রদায়ের
দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারীদের বাসস্থান
পানীয় জল বস্ত্র, ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাদানে সাহায্য করে থাকে, বিধবাদের
রোযার মাসে ইফতার সামগ্রী
বিতরণ করা হয় মিশনের
পক্ষ থেকে।
এ দিন বক্তব্য রাখতে
গিয়ে মুসলিম পার্সোনাল ল' বোর্ডের সদস্য
মাওলানা কামরুজ্জামান বলেন, বাংলাজুড়ে একটা চক্রান্ত চলছে
মুসলিম সমাজের বিরুদ্ধে। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে
লড়াই করতে হলে শিক্ষা
অর্জন করতে হবে। বিশেষ
করে মেয়েরা শিক্ষিত হলে সমাজের সর্বস্তরে
তার প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা
প্রকাশ করেন। মিশনের প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার হোসেন কাসেমী বলেন, নারী শিক্ষা প্রসারে
আল-মানার মিশন চালু হয়েছিল।
পড়ুয়ারা দ্বীনিশিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাও অর্জন করতে পারবে এই
মিশন থেকে। এর ফলে সুন্দরবন
এলাকার আরও উন্নত হবে।
শিক্ষায় উন্নত হলে সমাজ উন্নত
হবে। বক্তারা বলেন বক্তারা বলেন
দুনিয়াজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত চলছে,
তা রুখতে হলে শিক্ষাকে হাতিয়ার
করতে হবে। এর কোনও
বিকল্প নেই।

0 Comments