৯০ বছরের বৃদ্ধা, ছোট্ট শিশুসহ বাংলাভাষী ১৪ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ!

আসিফ রেজা আনসারী

এতদিন গোবলয়ে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে নির্যাতনের শিকার হতে হতো। বহু ক্ষেত্রে মারধর এমনকি সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। বীরভূমের বাসিন্দা সোনালী খাতুন সহ কয়েকজনের বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট এমনকি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের মারধর এমনকি খুনের ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্য উড়িষ্যা থেকে ১৪ জন বাংলাভাষী মুসলিম নাগরিককে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ । অপরদিকে বাংলাদেশ সূত্রে খবর, তারা কিছুতেই সে দেশে তাদের ঢুকতে দেয়নি। কিন্তু এই ১৪জনের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবে নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই নিখোঁজ ১৪জন নাগরিকের আত্মীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু বছর আগে তারা উড়িষ্যায় চলে গিয়েছিলেন কিন্তু প্রকৃত বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌসুনি দ্বীপে। 

নিখোঁজ যারা..... 

আত্মীয়রা জানাচ্ছেন চারজন শিশুসহ পাঁচ মহিলা ও পাঁচজন পুরুষ মিলিয়ে মোট ১৪ জনকে বর্তমানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই নিখোঁজ বাসিন্দাদের বিভিন্ন পরিচয়পত্র থেকে জানা গিয়েছে তাদের নাম গুলশান বিবি বয়স ৯০ বছর, সেখ জাবার ৭০, তার সন্তান শেখ হাকিম ৪৫, সেখ উকিল ৪০, সেখ রাজা ৩৮,, সেখ বান্টি ২৮, এদের মধ্যে শেখ উকিলের ১১ বছরের কন্যা শাকিলা খাতুন, শেখ রাজার তিনটি সন্তান যাদের মধ্যে রয়েছে ১২ বছরের কন্যা নাসিরা পারভিন, ১১ বছরের ছেলে শেখ তৌহিদ, এবং ২ বছরের আরেক ছেলে শেখ রাহিদ এবং আলকম বিবি ৬৫  শামসেরি বিবি ৪০, সাবেরা বিবি ৩৫, মেহেরুন বিবি ২৫। এরা সকলে উড়িষ্যা রাজ্যের জগদীশপুর জেলার অম্বিকা এলাকায় থাকতেন।

সবার পরিচয়পত্রের ছবি 

ঘটনার ঘনঘটা যেমন..... 

জানা গিয়েছে, সবাই ভারতীয় নাগরিক। কিন্তু জোর করে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সকলেই বর্তমানে উড়িষ্যার স্থায়ী বাসিন্দা। প্রাপ্তবয়স্ক সকলের ভোটার কার্ড রয়েছে, বাকি সবার রয়েছে আধার কার্ড। বাচ্চাদেরও আধার কার্ড রয়েছে, রেশন কার্ড, প্যান কার্ড, বার্থ সার্টিফিকেট, পুরানো জমির দলিল ইত্যাদি থাকলেও তাদেরকে জোর করে বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। আত্মীয়রা অভিযোগ করছেন, পুলিশ ডিসেম্বর মাসের ৮ তারিখে তাদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং তাদেরকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। গত ডিসেম্বর মাসের ২৬ তারিখ বিএসএফের মাধ্যমে সবাইকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন আত্মীয়রা। এই ১৪জনের এক আত্মীয় সাইফুল আলী খান জানান  সকলেই ভারতীয় নাগরিক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার মৌসুনি দ্বীপের স্থায়ী বাসিন্দা। বর্তমানে তারা উড়িষ্যায় বসবাস করতেন। শুধু বাংলায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফেও সকলকে ভারতীয় বলে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, তাও কোন কিছু গ্রাহ্য করা হয়নি বলে অভিযোগ করছেন এলাকার পুরানো বাসিন্দারা। 

এ দিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, যাদেরকে বাংলাদেশি সন্দেহে সে দেশে পুশব্যাক করেছে বিএসএফ, তাদের কাউকে গ্রহণ করা হয়নি। চুয়াডাঙ্গার এলাকা দিয়ে তাদেরকে বাংলাদেশি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে কিন্তু বাংলাদেশ কিছুতেই তা গ্রহণ করেনি। তারপর থেকেই লাপাতা সকলেই। এ নিয়ে আত্মীয়রা চরম উৎকণ্ঠিত। 

কড়া প্রতিক্রিয়া কংগ্রেসের: রাহুল-খাড়গের সাহায্য চাইলেন শুভঙ্কর সরকার.... 

এ দিকে বাংলাভাষী সাধারণ মানুষের উপর কেন নির্যাতন করা হবে, বাংলাদেশি বলে কেন দাগিয়ে দেওয়া হবে, এ বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যেমন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি, কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে চিঠি লিখেছেন। অবিলম্বে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ, বাংলাভাষী এই নাগরিকদের খুঁজে পাওয়া প্রয়োজনের সব রকম আইনি সহায়তার জন্য আর্জি জানিয়েছেন তিনি। 

 

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে চিঠি প্রদেশ কংগ্রেসের 

আইজেএফ ও আইনজীবী আসফাক আহমেদের লড়াই...... 

এ দিকে রাজ্যে বিষয়টি দেখছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও ইন্ডিয়ান জাস্টিস ফোরামের প্রধান কর্মকর্তা আসফাক আহমেদ। তিনি প্রদেশ কংগ্রেসের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে রয়েছেন। আসফাক আহমেদ বলেন, আমরা বিষয়টি দেখছি। ইনসাফের পক্ষে এ লড়াই চালিয়ে যাব। তবে বিএসএফের তরফে কোনও ইতিবাচক রেসপন্স পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানাচ্ছেন। বিষয়টিকে আদালত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে, কেন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষীদের উপর এ ধরনের চলবে এবং সন্দেহের চোখে দেখা হবে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। আগে উড়িষ্যা এই ধরনের কোনও ঘটনা দেখা যেত না, সম্প্রতি বিজেপি সে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এরকম বিদ্বেষ বাড়ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে শুরু করে, বিভিন্নঅফিস আদালতে বিষয়টি জানিয়েছেন আসফাক আহমেদ। প্রয়োজনে আদালতে মামলা করা হবে, তার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান।

আসফাক আহমেদের টুইট 


Post a Comment

0 Comments