জীবনের মূল্য ১০ লাখ? আনন্দপুর কাণ্ডে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা ফিরহাদের

বেঙ্গল মিরর ডেস্ক:এক ভয়াবহ দূর্ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতা। সেই ঘটনার জেরে উঠছে নানান প্রশ্ন। এরই মধ্যে আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত ও নিখোঁজদের পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে এ দিন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভস্মীভূত ডেকরেটর্সের গুদামের মালিককে জেরা করছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ঘটনার তদন্তের স্বার্থেই ওই ব্যবসায়ীকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে আনা হয়েছে। তবে তাঁকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

সূত্রের খবর, আনন্দপুরের একটি মোমো কোম্পানির গুদামের লাগোয়া ছিল ওই ডেকরেটর্সের গুদাম। রবিবার রাত আনুমানিক ৩টে নাগাদ পাশাপাশি থাকা এই দুই গুদামেই আগুন লাগে। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পরেও ঘটনাস্থলের কিছু অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। কী ভাবে আগুনের সূত্রপাত, সেখানে আদৌ কোনও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। ডেকরেটর্স গুদামের মালিকের নাম গঙ্গাধর দাস বলে জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার রাতে ওই গুদামে একাধিক কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ ফুলের কাজ করতেন, কেউ আবার সাজসজ্জার কাজে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন জেলা থেকে কাজের সূত্রে তাঁরা সেখানে এসেছিলেন। কাজ শেষ করে অনেকেই গুদামের মধ্যেই ঘুমোচ্ছিলেন, আবার কেউ কেউ তখনও ছোটখাটো কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সেই সময়েই গুদামে আগুন লাগে। তার পর পরিস্থিতি কী ভাবে ভয়াবহ হয়ে ওঠে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

শেষ খবরে প্রকাশ, এখনও পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তবে আরও অনেকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ। তাঁরা আদৌ বেঁচে আছেন কি না, থাকলে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই।

এ দিন দুপুরের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছন ফিরহাদ হাকিম। পরিদর্শনের পর তিনি জানান, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। তাঁর কথায়, “আগুনটা খুব ভয়াবহ লেগেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।” ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, “পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় পাঠিয়েছেন।” একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ অস্বীকার করেন। কংগ্রেস ও বিজেপি প্রশাসনিক ব্যর্থতার। বেআইনি কারবার রুখতে না পেরে দশ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়াকে জীবনকে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। 

Post a Comment

0 Comments