বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: বীরভূমের পাইকর গ্রামের আদি বাসিন্দা, পরিযায়ী শ্রমিক ও দেশের নাগরিক সোনালি খাতুনের ভারতে ফেরার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হল সোমবার৷ এ দিন বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের আদালত ৫,০০০ টাকার বন্ডে সোনালি বিবি এবং তাঁর সঙ্গী আরও ৫জন ভারতীয় জামিন পান। আগামী বুধবার ৩ ডিসেম্বর এই আদালতেই সশরীরে হাজিরা দিতে হবে সোনালিদের। তারপরেই জানা যাবে, কবে তাঁরা ভারতে ফিরতে পারবেন।
অন্যদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের গড়িমসি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে। সোনালিদের দেশের ফেরানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এই ইস্যুতে সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একইভাবে সরব হন রাজ্যসভার সাংসদ অধ্যাপক সামিরুল ইসলাম। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বলে দিয়েছে সোনালি বিবিরা ভারতীয় নাগরিক। কেন্দ্রীয় সরকারকেই তাঁদের ফেরানোর উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু তারপরও নিষ্ক্রিয় কেন্দ্র। এই সরকার এতই স্বৈরাচারী যে এরা আদালতকেও মানে না! আদালত বলার পরও তারা কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না।
![]() |
| ছবি সংগ্রহ |
সোমবারই নয়াদিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর এজলাসে সোনালি বিবিদের দেশে প্রত্যপর্ণের মামলাটি মেনশনিং করেন আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে। অবিলম্বে অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবিকে দেশে ফেরানো হোক, তাঁর বাবা বদু শেখের তরফে এই আর্জি জানান আইনজীবী হেগড়ে৷ আগামী বুধবার তাঁরা এই মামলা শুনবেন বলে জানিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে তিনি বলেন, আমরা এই বিষয়ে আজই কোনও নির্দেশ জারি করছি না৷ আপনারা দেখুন, কত দ্রুত পদক্ষেপ করা যায়। দিল্লিতে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিক ও ভারতীয় নাগরিক সোনালি বিবি ও তাঁর স্বামী বাংলায় কথা বলায় তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দেগে দিয়ে গত জুন মাসে প্রথমে আটক করে দিল্লি পুলিশ। আটক করা হয় মোট ৬ জনকে। তাঁদের মধ্যে সোনালি বিবির সন্তানও রয়েছে। পরে তাঁদের অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়।
এ নিয়ে অধ্যাপক সামিরুল বলেন, 'সত্যের জয় হল। প্রমাণিত হল সোনালী খাতুন আমাদের ভারতবর্ষের নাগরিক। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক। আজ বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের আদালত সোনালী সহ ৬ জনকে জামিন দিয়েছে। ২৩ জুন থেকে যে লড়াই শুরু হয়েছিল তার প্রথম যুদ্ধ জয় হল। আজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা জানিয়ে দিয়েছেন অবিলম্বে সোনালীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য সোনালীদের যেভাবে বাংলাদেশি দাগিয়ে দিয়েছিল তার বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে লড়াই জারি রেখেছি। হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট ছুটে বেড়িয়েছি ন্যায় বিচারের আশায়। অবশেষে বিচার মিলেছে। বিজেপি যে বাংলা বিরোধী বাঙালি বিরোধী তা আবার প্রমাণিত হল। লড়াইয়ের রাস্তা আমরা ছাড়ছি না।'

0 Comments