বেঙ্গল মিরর ডেস্ক: বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয় যে তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধী। অন্যদিকে বেশকিছু গণসংগঠনের দাবি এসআইআর প্রক্রিয়া আইনত সঠিক নয়। এতে নিরক্ষর এবং প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ ভোটাধিকার হারাতে পারেন। এরই প্রেক্ষিতে এবার স্পষ্ট হল যে তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআর-এর পক্ষে। রবিবার সাংবাদিকদের সামনে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, "আমরা এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু যেভাবে তাড়াহুড়ো করে এটা মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল প্রথম থেকেই তার প্রতিবাদ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আজ বাধ্য হয়েই খসড়া ভোটার তালিকা-সহ গোটা প্রক্রিয়াটাকেই এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হল। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ফের প্রমাণিত হল, তৃণমূল যে দাবি করেছিল সেটাই ঠিক। তাহলে এখন প্রশ্ন, এভাবে পরিকল্পনা না করে তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করতে গিয়ে এই যে এতগুলো মৃত্যু হল এর দায় কমিশন কেন নেবে না? রবিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এভাবেই কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংসদ পার্থ ভৌমিক। সাংবাদিক বৈঠকে চন্দ্রিমা বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার যে নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হয়েছিল, তা দেখে তৃণমূল কংগ্রেস বলেছে, এটা এত অল্প সময়ের মধ্যে করা সম্ভব নয়। এত দ্রুততার সঙ্গে এটা করতে গেলে অন্য আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এভাবে করতে গেলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, ভয়, ভীতি তৈরি হতে পারে। ফলে এটা সফল হতে পারে না। আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা কিন্তু এসআইআরের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু যেভাবে এটা তাড়াহুড়ো করে করা হচ্ছে, আমরা সেটার বিরুদ্ধে।
তৃণমূলের আরও বক্তব্য, শুরুতেই বলে দেওয়া হল, ৪ নভেম্বর থেকে শুরু করে দিলাম, ৪ ডিসেম্বর শেষ করা হবে। তারপর ৯ তারিখ খসড়া তালিকা বেরিয়ে যাবে। সব হিয়ারিং শেষ করে, অবজেকশন মিটিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা বেরিয়ে যাবে। আমরা বারবার বলেছিলাম, এটা হয় না, হয় না, হতে পারে না। যেটা আগে করতে ২ বছর লেগেছিল, সেটা দু’-এক মাসে কীভাবে শেষ হতে পারে? এরই মধ্যে দেখা গেল হঠাৎ কমিশন সবটাই সাতদিন করে পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করল। খসড়া থেকে চূড়ান্ত তালিকা, সবগুলোই সাতদিন করে পিছিয়ে গেল। তাহলে কী হল, কমিশন ঘুরিয়ে স্বীকার করে নিল, তৃণমূল কংগ্রেস যে কথাটা বলেছিল সেটাই ছিল সঠিক কথা। আমাদের দলনেত্রী যা বলেছিলেন, আজ কমিশন প্রায় তাই মেনে নিল। পার্থ ভৌমিক বলেন, যেকোনও কাজ করতে গেলে তার একটা পরিকল্পনা থাকে। একটা পরিকাঠামো লাগে। এখানে সেটাই তৈরি করা হল না, এসআইআর শুরু করে দেওয়া হল। বিএলওদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই তাঁদের ঘাড়ে এটা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে এতগুলো মৃত্যু হল? এখন এর দায় কমিশন কেন নেবে না?

0 Comments