ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির পক্ষে কলকাতায় সংহতি-সভা

আসিফ রেজা আনসারী

দশকের পর দশক ধরে নিজ বাসভূমে পরবাসী জীবন-যাপন করছে ফিলিস্তিনি জনগণ। জায়নবাদী ইসরাইল লাগাতার বোমা-গুলি আঘাতে নিরস্ত্র মানুষ খুন হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না নারী, শিশু এমনকী হাসপাতালে চিকিৎসারত রোগীও। আন্তর্জাতিক সব আইন ও আদালতের নির্দেশকে উপেক্ষা করছে ইসরাইল। তারই প্রতিবাদ ও ফিলিস্তিনিদের লড়াইয়ের প্রতি সংহতি জানিয়ে সরব হল শহর কলকাতা। শনিবার বিকালে নাগরিক সমাজ গর্জে উঠল ফিলিস্তিনিদের পক্ষে।


প্রতিবাদীরা গান-কবিতা ও কথায় আওয়াজ তুললেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার। ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও মজলুম মানুষের পক্ষে সরকারের অবস্থান নেওয়ার দাবিতেও সরব হলেন আয়োজকরা। তাদের বক্তব্য, কলকাতা ইনসাফ ও মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে বরাবর সরব হয়েছে। ভিয়েতনাম হোক বা ফিলিস্তিন, সবেতেই কলকাতার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ মিছিল করেছেন, প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই আজ ফিলিস্তিনের পক্ষে বিশেষ কর্মসূচি। এ দিন ছিল ‘ফিলিস্তিন মুক্তি সংগ্রামের বিশ্ব সংহতি দিবস’। সেই উপলক্ষে একটি জমায়েত হয় কলেজ স্কোয়ারে। তাদের স্লোগান ছিল ‘জায়নবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, ফ্যাসিবাদ ধ্বংস হোক’।

অন্যদিকে ধর্মতলায় গ্রান্ড হোটের সামনে মিউজিক কনসার্ট করে ‘সারা ভারত শান্তি ও সংহতি সংস্থা’। গানে গানে প্রতিবাদের কথা ও ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার পক্ষে আওয়াজ তোলেন শিল্পীরা। পথচলতি মানুষকে সচেতন করা ও সরকারের কাছে ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানোর কথাও বলেন আন্দোলনকারীরা। 


এক প্রশ্নের জবাবে সিপিএম নেতা শমীক লাহিড়ী বলেন, ‘ভারত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিত, এখন দেখা যাচ্ছে মোদি সরকার সবকিছু শেষ করে দিচ্ছে। কেন্দ্র সরকার কিছুই করছে না, তাই ফিলিস্তিনের পক্ষে ও গণহত্যা বন্ধের দাবিতে মানুষকে সরব হতে আমাদের এই কর্মসূচি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মজলুম মানুষের পক্ষে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।’ অন্য প্রসঙ্গে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নেত্রী কনীনিকা ঘো¡ বলেন,  ‘পৃথিবীর যেখানেই কোনও কিছু হয় দেখবেন নারী ও শিশুরা বেশি নির্যাতিত হয়। ফিলিস্তিন বা গাজাতেও তাই হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে যারা নিশ্চুপ আছে তাদের মানুষ বলা যায়? এটাই তো প্রশ্ন।’ এ দিনের অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন ফিরোজ আহমেদ, কাজী কামাল নাসের, অভিজিৎ ঘোষ, গণনাট্ট্য সংঘের শিবপুর শাখা ইত্যাদি। বিশিষ্টদের মধ্যে ছিলেন শমীক লাহিড়ী, কল্লোল মজুমদার, রবীন দেব, দেবজিৎ দে প্রমুখ।

অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা। কারও হাতে পোস্টার, কেউবা ছবি আঁকছেন, ফুটিয়ে তুলছেন অত্যাচারের কাহিনী, কেউ ভারত ও ফিলিস্তিনের মধ্যেকার ঐতিহাসিক সমর্থনের পক্ষে তুলছেন আওয়াজ। শত শত নারী, পুরুষ ও ছাত্র-যুবর উপস্থিতি ছিলে চোখে পড়ার মতো।

Post a Comment

0 Comments