বেঙ্গল মিরর, কলকাতা, ২১ সেপ্টেম্বর: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প ও সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হলো সংখ্যালঘু স্কিম সচেতনতা কর্মশালা । কর্মশালাটি আয়োজন করে জামাআতে ইসলামী হিন্দ পশ্চিমবঙ্গ শাখার সংখ্যালঘু বাজেট এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি । সকাল দশটায় সলিডারিটি মুভমেন্টের রাজ্য সম্পাদক ফাইয়াজ হোসনের তিলাওয়াত ও তরজুমার মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সংখ্যালঘু বাজেট এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কনভেনর জনাব জুলফিকার আলী মোল্লা। তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সরকারি বাজেট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
কর্মশালায় মূল বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে সংখ্যালঘুদের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প। একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা এবং সংখ্যালঘু নারীদের জন্য আলাদা প্রকল্প সম্পর্কে আলোকপাত করেন আলিয়া বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রাক্তন রেজিস্টার এবং বর্তমান ঝাড়গ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের রেজিস্টার জনাব নুরুস সালাম সাহেব ।
শিক্ষার্থী ও যুবকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত তুলে ধরে আলোচনা করেন জনাব আম্বার সাহেব। এছাড়াও সংখ্যালঘুদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থার প্রয়োগ বিষয়ে আলোকপাত করেন সফটওয়্যার ডেভেলপার মাহাবুব আলম মোল্লা। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বিভাগ অনুযায়ী তুলে ধরেন জামাআতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য মিডিয়া সম্পাদক এবং সফটওয়্যার ডেভেলপার মুস্তাফিজুর রহমান।
কর্মশালার সামগ্রিক মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেন জামাআতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি ডাঃ মসিহুর রহমান । তিনি বলেন, “সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বাজেট এবং স্কিমগুলো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে এর প্রকৃত সুফল মেলে না। তাই এই কর্মশালার মতো উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে কোন প্রকল্পে কীভাবে আবেদন করতে হবে, কোথা থেকে সুবিধা পাওয়া সম্ভব এবং বাস্তবে কীভাবে এগুলো কাজে লাগানো যায়। সচেতনতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পারবে।” এছাড়াও কর্মশালায় সংখ্যালঘুদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকল্পের তালিকা বিশিষ্ট একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন জামাআতে ইসলামী হিন্দ পশ্চিমবঙ্গ শাখার সংখ্যালঘু বাজেট এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি । সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জামাআতে ইসলামী হিন্দের সমাজ সেবা বিভাগের সম্পাদক জনাব আবদুর রহিম সাহেব।

0 Comments