দুই গোষ্ঠীর কাজিয়া: বিতর্কে মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়ন

সুমন সাহা

সাবেক আলিয়া মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল মাদ্রাসার ছাত্র ইউনিয়ন। বহু পুরনো এই ছাত্র সংগঠন বর্তমানে হারিয়েছে তার কৌলিন্য। শুধু তাই নয়, আন্দোলনের গতিপথ নিয়েও নানান প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি এই সংগঠনের বিভিন্ন গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে এবং একটি গোষ্ঠী আর একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নানান বিবৃতি জারি করছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকে নিজেদেরকে মূল সংগঠনের অংশগুলো দাবি করছে। এরই মধ্যে রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে দুই গোষ্ঠীর পাল্টাপাল্টি নোটিশ। সংগঠনের একটি গোষ্ঠীর তরফে একজনকে যেমন বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, অন্য গোষ্ঠীর তরফে দাবি করা হচ্ছে যে সংগঠনের নাম মিথ্যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

একটি গোষ্ঠীর নেতা ইয়াজ আহমেদ মন্ডল সহ বেশ কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া একটি বিবৃতি জারি করেন। তাতে তারা লেখেন, "পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো যাচ্ছে যে, গত ২৫/০৪/২০২৬ তারিখে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, সংগঠনবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে ইরফান সাদিক-কে পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি পদ থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হল। সভায় আলোচনার মাধ্যমে উঠে আসে যে, তিনি সংগঠনের মর্যাদাপূর্ণ পদকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন এবং সংগঠনের নীতিমালা লঙ্ঘন করে একটি রাজনৈতিক দলের প্রচার-প্রসারে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এর ফলে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়ন একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন, যার মূল লক্ষ্য ছাত্রসমাজের শিক্ষা, অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা করা। সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি সংগঠনের পদ ব্যবহার করে রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত হতে পারেন না। এই প্রেক্ষিতে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা বজায় রাখার স্বার্থে কেন্দ্রীয় কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে উক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।"

অন্যদিকে সংগঠনের একট গোষ্ঠীর নেতা ইরফান সাদিক ফেসবুকে লেখেন, "যারা অবৈধ ভাবে ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে... শুধু মাত্র মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ও মাদ্রাসার প্রতি বিদ্বেষী পরিবেশকে ভাঙতে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি, বেশি বাড়াবাড়ি করলে উপযুক্ত জবাব দেবো। ২০২৩ সালেও দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেছি এইসব প্রতিহিংসার জন্য কিন্তু এবার সতর্ক করছি। যদিও কেউ ভাবছে সে আটকে রেখেছিলো, বলতে বাধ্য হবো।"

Post a Comment

0 Comments