আসিফ রেজা আনসারী
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিকিৎসাক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করছে ইসলামিয়া হাসপাতাল। কয়েক বছর আগে ৭৩, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউতে হাসপাতালের নয়া বিল্ডিংয়ে চালু হয়েছে ওপিডি, ইনডোর, এমনকী হার্টের জটিল সমস্যার চিকিৎসা। আইসিইউ-সহ নানান পরিষেবা চালু হয়েছে। এবার আরও একধাপ এগোতে চলেছে শতাব্দীপ্রাচীন ইসলামিয়া হাসপাতাল। বর্তমানে ৯৪, পার্ক স্ট্রিট যা পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ইসলামিয়া হাসপাতাল নামে পরিচিত, সেখানে তৈরি হবে নতুন করে বড় হাসপাতাল। জি-প্লাস সেভেন ফ্লোর নয়া বিল্ডিংয়ের ভিত্তিপ্রস্তর নির্মিত হতে পারে সামনের বছরের পয়লা জানুয়ারি। এখানেই শেষ নয়, পার্ক সার্কাস হজ হাউসের কছে যে নার্সিং স্কুল আছে, সেখানে পড়ুয়া ও স্টাফদের আবাসন হবে। আর চেতলার সবজিবাগানে তৈরি হবে নতুন নার্সিং কলেজ। এইসব বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগী হয়েছেন হাসপাতালের সভাপতি তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
![]() |
| ছবি নিজস্ব |
রবিবার সকালে ইসলামিয়া হাসপাতালের পরিচালন সমিতির বৈঠক হয়। সেখানে নানান বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে খবর। বৈঠক শেষেহাসপাতালের পরিচালন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিরুদ্দিন ববি বলেন, পার্ক সার্কাসে আমাদের যে মেডিক্যাল ইউনিট আছে সেখানে নতুন করে জি-প্লাস সেভেন বিল্ডিং হবে। সেখানে চালু হবে অত্যাধুনিকমানের নয়া হাসপাতাল। তিনি আরও জানান, আগামী ৩ অক্টোবর টেন্ডারের জন্য খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হবে। আর সেই মাসেরই ১৬ তারিখ দরপত্র বা টেন্ডার দেওয়া হবে উপযুক্ত সংস্থাকে। বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। একইভাবে জিএনএম কোর্সের বদলে এবার থেকে নয়া কলেজ চালু হচ্ছে ইসলামিয়ার। সেখানে বিএসসি নার্সিং কোর্স শুরু হবে।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হাসপাতালের সহ-সভাপতি ও রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমদ হাসান ইমরান বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর কর্তৃক যেসব যোগ্যতামান আছে, সবগুলিই পূরণ করছে ইসলামিয়া। আমাদের যাত্রাপথে নতুন পালক যুক্ত হতে চলেছে। তিনি আরও বলেন, ইসলামিয়া হাসপাতাল একশো বছর ধরে মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছে। এখানে হিন্দু-মুসলিম, দলিত দেখা হয় না, সবাইকে নামমাত্র খরচে ভালো চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য সবর্দা সচেষ্ট ইসলামিয়া হাসপাতাল।
বাংলার বড় উৎসবগুলির মধ্যে দুর্গাপুজো অন্যমত। সেই উৎসবে শামিল হওয়া মানুষকে আপাতকালীন চিকিৎসা ও পানীয় জল-সহ জরুরি পরিষেবা দিতে ৭৩, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ ও পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্টে স্বাস্থ্য শিবির করা হবে। এমনটাই জানান হাসপাতালের কার্যকরী সভাপতি এস এম হায়দার। তিনি জানান,পঞ্চমী থেকে বিসর্জন পর্যন্ত বিশেষ ক্যাম্প রোজ সন্ধ্যা ৫ টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত চালু থাকবে। এই কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন প্রতিষ্ঠানের অন্যতম সদস্য নাসির সাহেব। তিনি বলেন, বাংলার সম্প্রীতির ধারা মেনে প্রতিবেশি হিন্দু ভাইদের সাহায্যের জন্য আর্থিক সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছি।
নার্সিং স্কুল থেকে ইসলামিয়ায় এবার নার্সিং কলেজ চালু হতে চলেছে। এ নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে অন্যতম সদস্য ইস্তিয়াক আহমেদ রাজু বলেন, আগে আমাদের জিএনএম কোর্স ছিল। নতুন করে কলকাতা পুরনিগমের সঙ্গে যৌথভাবে নার্সিং কলেজ চালু হবে চেতলার সবজিবাগানে। সেখানে ১০০ আসন থাকবে। ইসলামিয়ার পড়ুয়া থাকবে ৭০জন আর কলকাতা পুরনিগমের ৩০ জন। পার্ক সার্কাস হজ হাউসের পাশে নার্সিং স্কুলের জায়গায় পড়ুয়া ও স্টাফদের জন্য আবাসন হবে বলেও তিনি জানান। এছাড়াও রাজ্য সরকারের সহায়তায় মেয়েদের চাকরিমুখি স্কিল ট্রেনিং দেওয়া হবে বলেও খবর।
(তথ্য সৌজন্য পুবের কলম)

0 Comments